‘আমার বাবাকে এনে দিন, রাতে আমার ঘুম হয় না’
বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এসে শিশু সন্তান কাজী তৌফিক (৮) বললো, খুনিদের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম হয় না। আপনারা আমার বাবাকে এনে দিন।
গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে নিজের ভাতিজারা কাজী সিরাজুল ইসলামকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করেন। আর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কাজী তৌফিক। তাঁর এই বক্তব্যে এই সময় উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে।
সদরপুর থানা ফটকের ঠিক সামনে রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহতের স্ত্রী, কন্যা, শিশু সন্তানসহ ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এসময় নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, জমি ও গাছ কাটা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। খুনিদের কারণে আমরা এলাকায় চরম ভয়ে রয়েছি।
নিহতের কিশোরীকন্যা কাজী প্রভা জানিয়েছেন, আমার বাবাকে আমরা কোথায় পাব। সারাক্ষণ বাবাকে খুঁজতে থাকি আমরা। আমাদের খুনিদের ভয়ে রাতে ঘুম হয় না। কখন আবার আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা সরকারের কাছে অতি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের ভাই কাজী মাসুদ রানা জানান, আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমরা সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীরা যেন দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি পায় এটাই আমাদের দাবি। আমি নিজেও সেদিন এই খুনিদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছি। আমি কোনো মতে বেঁচে থাকলেও এখনো ভয়ে থাকি, কখন আবার তারা এসে হামলা করে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিজের ভাতিজারা কাজী সিরাজুল ইসলামকে (৬২) হত্যা করেন। তিনি মানিকগঞ্জে অবস্থিত বসুন্ধরা গ্রুপে কর্মকর্তা ছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার ভাই মো. কাজী মাসুদ রানা (৩৬)। তিনি সদরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর