কোরবানির মাংস সমাজনেতাদের মাধ্যমে বণ্টনে অস্বীকৃতি, পরিবারকে হুমকি
চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আটোমোর গ্রামে সাদেকুর রহমান নামের একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সংঘবদ্ধভাবে হয়রানি, সামাজিকভাবে একঘরে করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোরবানির মাংস কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাদের এ হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিজেদের সমাজপতি বা মাতব্বর হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ওই পরিবারকে কোরবানির মাংস কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খুরশিদ, সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন আহমেদ ওরফে রিয়াদসহ শামসুল আলম, বিল্লাল ও হারুন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গালিব বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আমার কোরবানির মাংসের একটি অংশ সমাজের গরির-অসহায় মানুষের মাঝে বিরতণ করি। তবে মাংস কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে বিতরণে অস্বীকৃতি জানালেই ঘটে বিপত্তি।
গালিব অভিযোগ করেন, কথিত সমাজনেতাদের মাধ্যমে মাংস বণ্টনে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় না। তাই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাংস বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অপপ্রচার, সামাজিক চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। তিনি বলেন, আমাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, জানাজা আয়োজন করতে না দেওয়া এবং পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের আরও কয়েকটি পরিবারকেও একই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গালিব আরও অভিযোগ করেন, গ্রামবাসীর মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি করে অভিযুক্তরা আমাদেরকে সমাজবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নের চেষ্টা করছে। তারা মহল্লায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনানুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছেন। কথিত এই মাতব্বরদের সিদ্ধান্ত কেউ অমান্য করলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট, অপমান করা এবং তার ধর্মীয় অধিকার সীমিত করতে চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও অভিযুক্তরা মসজিদের পুকুর এবং অন্যান্য দাতব্য সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন। মসজিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইমাম নিয়োগ ও অপসারণ, পুকুর ব্যবহার এবং আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মুসল্লিদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে একাধিক ইমামও তাদের একতরফা সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাওলানা মতিন প্রায় ২০ বছর ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, যথাযথ নোটিশ, তদন্ত বা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পৃথক তদন্তের দাবি জানায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে আটোমোর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খুরশিদ বলেন, এমন কিছু ঘটেনি। আমরা মিলেমিশে চলতে চাই।
মসজিদের সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন আহমেদ ওরফে রিয়াদ বলেন, বহু বছর ধরে আমাদের এখানে সমাজের কোরবানির মাংস একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। ওই পরিবার নিজেরা মাংস বিতরণ করাতে নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছিল, তাই তাদের বিষয়টি বুঝিয়েছি। কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি। শরিয়া অনুযায়ী যে কেউ তার মতো করে কোরবানির মাংস বিতরণ করতে পারে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা