বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মেসির হ্যাটট্রিক, সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দারুণ আত্মবিশ্বাস আর চ্যাম্পিয়নসুলভ পারফরম্যান্স দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ৩-০ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি একাই অসাধারণ হ্যাটট্রিক করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। আর প্রিয় দল ও মেসির এমন রাজকীয় পারফরম্যান্সে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠেছেন চাঁদপুরের ফুটবলপ্রেমীরা।
আর্জেন্টিনার এই দাপুটে জয়কে ঘিরে চাঁদপুরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকরা দলবেঁধে খেলা দেখতে জড়ো হন। বিশেষ করে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অডিটোরিয়ামে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আজ বুধবার (১৭ জুন) ভোর থেকেই কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। কারও গায়ে প্রিয় দলের জার্সি, কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, আবার কেউ মুখে এঁকেছেন আলবিসেলেস্তেদের রঙ। খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। প্রতিটি আক্রমণ আর মেসির প্রতিটি গোল যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করছিল সমর্থকদের মাঝে।
মেসির প্রথম গোলের পরই আনন্দে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। দ্বিতীয় গোলের পর চারদিকে শোনা যায় করতালি ও উল্লাসধ্বনি। আর শেষ মুহূর্তে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হতেই পুরো অডিটোরিয়াম যেন রূপ নেয় এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। আনন্দে মেতে উঠে অনেককে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে দেখা যায়।
খেলার বিশেষ বড় পর্দায় প্রদর্শনীর অন্যতম আয়োজক মার্জুক ঐশ্বর্য বলেন, আর্জেন্টিনা শুধু একটি দল নয়, এটি আমাদের আবেগের জায়গা। প্রথম ম্যাচে মেসির অসাধারণ তিন গোলে আমরা দারুণ খুশি। বিশ্বের অনেক দল ভালো খেলে, তবে আমাদের কাছে সেরা দল আর্জেন্টিনাই। দলের এমন শুরু আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আর্জেন্টিনার আরেক নারী সমর্থক মিতু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য রাত থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। কখন সকাল হবে, কখন খেলা শুরু হবে- সেটাই ভাবছিলাম। মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে আমি মুগ্ধ। আমরা চাই আর্জেন্টিনা এভাবেই টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাক।
চাঁদপুরের ফুটবলপ্রেমীদের মতে, টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন আধিপত্য বিস্তারকারী জয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার আশা আরও জোরালো করেছে। নিজেদের এই সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারলে সামনে আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে বলে বিশ্বাস তাদের।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর