এআই দিয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থককে ব্রাজিলের জার্সি পরানোয় থানায় অভিযোগ
যশোরের কেশবপুরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্জেন্টিনার সমর্থককে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান অন্তু বাদী হয়ে ‘রাসেল বাবু’ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় এই অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মূলগ্রামের বাসিন্দা অহিদুর রহমান অন্তু আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক। গত ১২ জুন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর পর তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে একটি ছবি পোস্ট করেন। এরপর পৌর শহরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল বাবু এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই ছবিতে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।
ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান অন্তু বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের একজন অনুরাগী এবং আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক। আমার এই সমর্থনের বিষয়টি আমার এলাকার মানুষজনও জানে। কিন্তু সম্প্রতি আমার প্রিয় দলের জার্সি পরা একটি ছবিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্য একটি দলের জার্সি পরিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা শুধু আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছেরই অবমাননা নয়, বরং আমার সম্মানহানিও করেছে। আমি একজন নাগরিক হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের বিকৃত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমি রাসেল বাবুকে ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার অনুরোধ করেছিলাম তার পোস্ট করা সেই বিকৃত ছবিটি মুছে ফেলার জন্য, কিন্তু তিনি আমার অনুরোধের কোনো তোয়াক্কা করেননি। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া এডিট করে এভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা যে অপরাধ এবং এর ফলে আমি যে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি, সেটির বিচার চেয়েই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি আশা করি, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
অন্তুর করা অভিযোগে রাসেল বাবুর বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের মানহানির দণ্ডবিধি ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোছা. রোকসানা খাতুন বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত ও জার্সি পরিবর্তনের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)