ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরান চুক্তি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অন্ধকারে রেখেছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ১৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ১০:৫৪, ১৭ জুন ২০২৬
ইরান চুক্তি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অন্ধকারে রেখেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাতে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার নিজের দল রিপাবলিকানের শীর্ষ নেতাসহ কংগ্রেসের বহু আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি সম্পর্কে তারা এখনো অনেকটাই অন্ধকারে রয়েছেন।

আরো পড়ুন:

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রবিবার ঘোষিত এই মার্কিন-ইরান চুক্তিটি বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এই সংঘাতের অবসান ঘটবে।

উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী গত এপ্রিলে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে খুলে দেওয়া হবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণাললি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল।

তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো এখনো অস্পষ্ট এবং এর কোনো লিখিত অনুলিপি এখনো প্রকাশ করা হয়নি বা কংগ্রেসেও পাঠানো হয়নি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) ট্রাম্প আবারো জোর দিয়ে বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে। তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

শান্তি চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডেমোক্র্যাটরা।

মঙ্গলবার সিনেটের অধিবেশন শুরু করে নিউইয়র্কের সিনেট ডেমোক্রেটিক লিডার চাক শুমার বলেন, “আমাদের ডজনখানেক বার বলা হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ, আর আমরা ডজনখানেক বারই হতাশ হয়েছি।”

শুমার আরো বলেন, “ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি ‘সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন বলে দাবি করার পর দুই দিন পার হয়ে গেছে, অথচ এটি আসলে কী, সে সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।”

জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান প্রধান ঘটনাগুলোর বিষয়ে সাধারণত কংগ্রেসের যে বিশেষ কমিটিকে ব্রিফ করা হয়, সেই ‘গ্যাং অব এইট’-এর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি গোপন ব্রিফিংয়ের আয়োজন করার আহ্বান জানান শুমার।

শুমার আরো বলেন, কর্মকর্তাদের উচিত পুরো কংগ্রেসকে এই বিষয়ে ব্রিফ করা এবং আমেরিকার জনগণকে জানানো।

তবে এ ধরনের কোনো কর্মসূচির পরিকল্পনা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে করা এই সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসে পাঠানোর কথা তিনি ভাবেননি, তবে তিনি এটি করবেন। জি-৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, “আমি ধারণাটি পছন্দ করছি।”

ট্রাম্প জানান, আগামী শুক্রবার একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে, তিনি সেটি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান।

এদিকে, ২০১৫ সালে পাস হওয়া ‘ইরান নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট রিভিউ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে চুক্তিটি কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই পর্যালোচনার সুযোগ নিয়ে আইনপ্রণেতারা চাইলে চুক্তির যেকোনো অংশ আটকে দিতে পারেন। 

এর আগে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন, যাতে ইরান যুদ্ধের জন্য ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য হন। তবে তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, বরং কংগ্রেসের রয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে, সিনেট এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস- উভয় কক্ষেই সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই তার পররাষ্ট্র নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাননি।

সাউথ ডাকোটার সিনেটর এবং সিনেটের রিপাবলিকান লিডার জন থুন মঙ্গলবার ক্যাপিটলে সাংবাদিকদের বলেন, দলের সদস্যরা সমঝোতা স্মারকের মূল কপিটি দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

‘আমরা এটি পাওয়ার চেষ্টা করছি,’ উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন যে, এত বড় একটি ঘটনা দলের নিজস্ব সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার না করাটা একটি প্রশাসনের জন্য বেশ অস্বাভাবিক।

থুন বলেন, “আমি এই দায়িত্বে আসার পর থেকে আমাদের কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।”

তথ্যের এই  ঘাটতি নিয়ে অন্যান্য রিপাবলিকানরাও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় নর্থ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সাংবাদিকদের বলেন, “এটি যদি কোনো গোপন চুক্তি হয়, তবে আমি একে গুরুত্ব সহকারে নিই কীভাবে?”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়