রংপুরের পীরগঞ্জে গভীর নলকূপের ঘর থেকে পা বাঁধা অবস্থায় এক নিরাপত্তাকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই দিনে মিঠাপুকুরে রাস্তার পাশের একটি আমবাগান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের বড় উমরপুর গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-বিএডিসির একটি গভীর নলকূপের ঘর থেকে মফিজার রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা মফিজার রহমানকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে গভীর নলকূপে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খুঁটিতে থাকা তিনটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের তামার তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ট্রান্সফরমারের খালি খোলস পড়ে ছিল। নিহত মফিজার রহমান ওই গভীর নলকূপের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, একই দিন সকালে মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের নাগেরজাট সড়কের কসবা এলাকায় একটি হাঁড়িভাঙ্গা আমবাগান থেকে গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির পরনে শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এলএইচ/আরএন