পরিবারের হাল ধরতে ও উন্নত জীবনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন মাদারীপুরের যুবক সুরুজ কাজী। সেখানে দালালের প্রলোভনে পড়ে যোগ দেন চলমান রাশিয়া-ইক্রেন যুদ্ধে। অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়েছেন তিনি। এ খবর স্বজনদের কাছে পৌঁছালে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। নিহত সুরুজ কাজীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সুরুজের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের আহাজারি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সংসারের হাল ধরতে রাশিয়ায় যান মাদারীপুর সদরের দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর বড় ছেলে সুরুজ কাজী। কয়েক মাস একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুরুজ। দেশে সংসার চালানোর জন্য টাকাও পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যেই সেখানে বাংলাদেশি দালালের খপ্পরে পড়েন তিনি। বর্ডার পার হয়ে ইউরোপ পৌঁছানোর প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন সুরুজ।
গত ১৮ মে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনের হামলায় নিহত হন তিনি। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টার দিকে পরিবারের কাছে মৃত্যুর সংবাদ দেন রাশিয়ায় অবস্থানরত তার এক বাংলাদেশি সহযোদ্ধা। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী, মা, বাবা ও বোন। সুরুজকে হারিয়ে স্বজনরা হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। মা-বাবা, স্ত্রী, একমাত্র বোন ও ছোট দুই ভাইকে রেখে গেছেন সুরুজ। মাত্র তিন মাস আগে নিহত সুরুজের দুই বছর বয়সী শিশু পুত্র জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
অসচ্ছল পরিবারকে সরকারি সহযোগিতাসহ সুরুজের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
নিহত সুরুজের মা নূর জাহান বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, “ও বাবা, কী বিদেশ গেলা? বুকটা ফাইটা যায়। ও বাবা, আমার বাবার লাশটা দেশে ফেরত চাই।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। পরিবার থেকে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
এএইচ/আরএন