প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে। একইভাবে আগামী এক বছরে আরও ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে এবং উন্নয়নের সুফল পাবে। তিনি বলেন, “হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে এ দেশে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি।”
তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের নারী চা-শ্রমিকদের কাছেও ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ৫০ জনকে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।”
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রায় ১৫০ জনকে বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা-সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের সহযোগিতা করতে চাই। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বিএনপির রাজনীতি। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।
আরএ/আরএন