পরিত্যক্ত ইটভাটা এখন ‘ফ্রুটস ভ্যালি’, আছে ৭৫ জাতের বিদেশি আম
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে একসময়ের পরিত্যক্ত ও অনাবাদি একটি ইটভাটা এখন সবুজের সমারোহ। সিনিয়র সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ‘ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো’ খামারে এখন ঝুলছে ৭৫ জাতের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আম। আধুনিক এই ফলবাগানটি ইতোমধ্যে কৃষিপ্রেমী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
খামারটিতে প্রবেশ করলেই দেখা যায় সারিবদ্ধ তিন শতাধিক আমগাছ, যেখানে থোকায় থোকায় ঝুলছে হরেক রঙের ও আকৃতির আম। পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে এবং বিষমুক্ত ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফলে বিশেষ পদ্ধতিতে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ ও প্লাস্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৩০টি জাতসহ মোট ৭৫ জাতের বিদেশি আমের চাষ হচ্ছে এখানে। তার সংগ্রহে রয়েছে- মিয়াজাকি, রেড আইভরি, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, লেমন জেস্ট, বেইলি মার্বেল, কিং অব চাকাপাত, আতাউলফো, আলফানসো, সূর্যডিম, পালমার, মহাচানক এবং ব্রুনাই কিং-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব জাত। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এসব আম সংগ্রহ শুরু হবে।
হেলাল উদ্দিন বলেন, গত বছর ৫৭ জাতের আম বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। এ বছর ফলন কিছুটা কম হলেও জাতের সংখ্যা বেড়েছে। এবারও ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয়ের আশা করছি। পরিত্যক্ত একটি ইটভাটাকে আধুনিক কৃষিখামারে রূপান্তর করা ছিল আমার বড় চ্যালেঞ্জ।
বাগানটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। টিকিট কেটে প্রবেশ করা দর্শনার্থীরা কেবল বৈচিত্র্যময় আমের বাগানই দেখছেন না, সুযোগ পাচ্ছেন বিভিন্ন জাতের আম চেখে দেখারও। জাহিদুল ইসলাম ও মো. সবুজ নামের দুই দর্শনার্থী বলেন, একসাথে এত জাতের আম আগে কখনও দেখিনি। এমন উদ্যোগ আমাদের মতো তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলছে।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি জাতের আম চাষে স্বাদ ও মিষ্টতার কিছু তারতম্য হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সুষম সার প্রয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সাফল্য সম্ভব। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর