শুধু টিকে থাকাই নয়, ইরানের সাফল্য আরো সুদূরপ্রসারী: বিশ্লেষক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরান কেবল নিজেদের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখেনি, বরং ওয়াশিংটনকে একটি বড় ধরনের ‘কৌশলগত পরাজয়’ উপহার দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের শীর্ষস্থাীয় গবেষক আলী আকবর দারেইনি।
বুধবার (১৭ জুন) তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ’-এর এই গবেষক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।
দারেইনি বলেন, “টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় অর্জন, তবে ইরানের সাফল্য কেবল দুটি পারমাণবিক শক্তির আগ্রাসী যুদ্ধের মুখে টিকে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- যার একটি আবার বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তি।
তার মতে, “ইরান মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করে দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমেরিকানরা তাদের নিজস্ব সামরিক সম্পদই রক্ষা করতে পারেনি, তাদের আরব মিত্রদের তো দূরের কথা। সবাই বুঝতে পেরেছে যে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইসরায়েলকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, আরব দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য নয়।”
দারেইনি আরো যোগ করেন, ইরান জাতীয় সংহতির এমন এক স্তর প্রদর্শন করেছে যা নিজস্ব কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ সবাইকে দেখিয়েছে কীভাবে ইরানিরা জাতীয় পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইরান জাতীয় সংহতি প্রদর্শন করেছে এবং ইরানের কৌশলগত সংস্কৃতির মূল ভিত্তিটি তুলে ধরেছে- যা হলো কোনো বিদেশি দাদাগিরি ও আগ্রাসনের কাছে মাথা নত না করা।”
তার মতে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি নিজেই মার্কিন ব্যর্থতার প্রমাণ।
দারেইনি বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আশা করেছিল মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেবে। কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এই ব্যর্থতাই প্রমাণ করে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত পরাজয় এবং ইরানের জন্য একটি ঐতিহাসিক বিজয়।”
ঢাকা/ফিরোজ