ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে লেবাননে ফের ইসরায়েলি হামলা
ইরানের হুঁশিয়ারি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ফের নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) সকালে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ জেলার কাফার তেবনিতের উপকণ্ঠে একটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে স্থল অভিযানও পরিচালনা করেছে। আল-ফাওকা শহর ও আলি আল-তাহের শহরের উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য জানা যায়নি। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাবাতিয়াহ শহর ও এর পার্শ্ববর্তী ছোট শহর ও গ্রামগুলো তীব্র ইসরায়েলি সামরিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী শহরটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, এলাকার ভেতরে ও আশেপাশে উঁচু ভূমি দখল করছে।
গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টও এ ঘটনায় প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। রাজনৈতিক বৈশ্লেষকদের আশঙ্কা, লেবাননের ওপর অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিটি ভেস্তে দিতে পারে।
বুধবার (১৭ জুন) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সাবেক বিশেষ সহকারী ডগ ব্যান্ডো বলেন, “লেবাননের ওপর হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটনকে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় চলমান চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারে।”
ডগ ব্যান্ডো জানান, ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে আনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের যে বিপুল প্রভাব রয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যে সম্পর্ক, তাতে বিষয়টি বেশ জটিল।”
তার মতে, ট্রাম্প লেবাননে হামলা বন্ধের দিকে মনোনিবেশ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
ব্যান্ডো সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের ওপর ‘প্রকৃত চাপ’ সৃষ্টি করা না হলে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধের যেকোনো আহ্বান সহজেই প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রভাব খাটানোর সুযোগের কথা উল্লেখ করে ব্যান্ডো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার মতো হাতিয়ার রয়েছে, কারণ ওয়াশিংটনই ইসরায়েলকে বিপুল আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “ইসরায়েল যদি লেবাননসহ অন্যান্য জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে চায়, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু ইতিহাসের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইসরায়েলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্ত্র ও অর্থ দেওয়া বন্ধ করতে রাজি হননি এবং মার্কিন কংগ্রেসও সম্ভবত এতে সায় দেবে না।”
ডগ ব্যান্ডো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের ওপর প্রকৃত কোনো চাপ প্রয়োগ করতে না পারে, তাহলে পুরো বিষয়টি কেবল ‘নাটক’ হিসেবেই পরিগণিত হবে। আর ইরানও এই পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক হিসেবে নেবে না, যা শেষ পর্যন্ত চলমান চুক্তিটিকে পুরোপুরি ধ্বংস বা ভেস্তে দিতে পারে।”
ঢাকা/ফিরোজ