৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গোর সামনে রোনালদোর পর্তুগাল
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার (১৭ জুন) রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘কে’ এর এই লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। একদিকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার খোঁজে থাকা পর্তুগাল। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে ফেরা কঙ্গো। ফলে ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই।
বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে পর্তুগাল। ছয় ম্যাচে ২০ গোল করা দলটি ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে। ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়াই বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য। এরপর বেশ কয়েকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও শিরোপার নাগাল পায়নি তারা। ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগিজদের।
এবারও দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলারের ক্যারিয়ারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ অসংখ্য সাফল্য থাকলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে এই বিশ্বকাপ তার জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।
রোনালদোর পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, রাফায়েল লেয়াও ও নুনো মেন্দেসদের নিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়েছে পর্তুগাল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শেষ ১৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি হেরেছে তারা। আফ্রিকান দলের বিপক্ষেও পর্তুগালের রেকর্ড বেশ ভালো।
অন্যদিকে, কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রার গল্পটি অনেকটাই সংগ্রাম আর অপেক্ষার। ১৯৭৪ সালে জাইর নামে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল দেশটি। সেটিই ছিল তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ উপস্থিতি। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের বাছাই পরবর্তী প্লে অফে জামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে কঙ্গো।
কঙ্গোর প্রস্তুতিও ছিল ব্যতিক্রমী। দেশে ইবোলা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ইউরোপে অনুশীলন ক্যাম্প করেছে দলটি। বিশ্বকাপে আসার আগে ডেনমার্ক ও চিলির বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে তারা। ফলে দলটি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আক্রমণভাগে কঙ্গোর সবচেয়ে বড় ভরসা ইয়োয়ানে উইসা। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল লিগে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ওপরই গোলের দায়িত্ব থাকবে। তার সঙ্গে আছেন সেদ্রিক বাকাম্বু, মেশাক এলিয়া, শঁসেল এমবেম্বা ও অ্যারন ওয়ান বিসাকার মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। আফ্রিকার অন্যান্য প্রতিনিধিদের ইতিবাচক পারফরম্যান্সও কঙ্গোকে অনুপ্রাণিত করছে।
গ্রুপ ‘কে’ তে পর্তুগাল ও কঙ্গোর সঙ্গে রয়েছে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান। তাই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথে প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে কলমে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে বড় মঞ্চে চমক দেখানোর ক্ষমতা কঙ্গোরও আছে।
একদিকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ৫২ বছর পর ফিরে আসার উচ্ছ্বাস হিউস্টনের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়। বরং দুই ভিন্ন যাত্রার গল্পও। শেষ পর্যন্ত হাসবে রোনালদোর পর্তুগাল নাকি প্রত্যাবর্তনের গল্পকে আরও রঙিন করবে কঙ্গো সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল: দিয়োগো কস্তা, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রাফায়েল লেয়াও
কঙ্গো: দিমিত্রি মপাসি নজাউ, অ্যারন ওয়ান বিসাকা, শঁসেল এমবেম্বা, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে, আর্থার মাসুয়াকু, নোয়া সাদিকি, স্যামুয়েল মুতুসামি, থিও এমবুকু, ইয়োয়ানে উইসা, মেশাক এলিয়া, সেদ্রিক বাকাম্বু

স্পোর্টস ডেস্ক