নবাগত জর্ডানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার ম্যাচ রাঙাল অস্ট্রিয়া
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে ২০২৬ সালের ১৭ জুন সান্তা ক্লারায় মুখোমুখি হয় অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক। অস্ট্রিয়া দীর্ঘ বিরতির পর (১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার) বিশ্বকাপে ফিরে আসে, আর জর্ডান খেলতে নামে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ।
ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। প্রথমার্ধের ২০তম মিনিটে রোমানো শ্মিড বক্সের বাইরে থেকে এক দারুণ কার্ভ করা শটে গোল করেন। এই গোলে তারা ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচে ফিরে আসে জর্ডান। আলি ওলওয়ান দ্রুত এক চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করে সমতা ফেরান ১–১ ব্যবধানে। কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ জর্ডানের দিকে থাকলেও তারা তা ধরে রাখতে পারেনি।
কিছুক্ষণ পর কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে বল ডিফ্লেক্ট হয়ে জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরাবের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হয়। ফলে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া ২–১ ব্যবধানে।
এরপর জর্ডান একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও অস্ট্রিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তারা আর সমতায় ফিরতে পারেনি।
অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে জর্ডান একটি ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কো আর্নাউটোভিচ গোল করেন, ফলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–১।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়া ৩–১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় তারা গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে। অন্যদিকে জর্ডান প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত রেখে যায়।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় অস্ট্রিয়ার ম্যাচ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। বিশেষ করে সেট-পিস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানো এবং চাপের মুহূর্তে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা তাদের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।

স্পোর্টস ডেস্ক