বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ এল-এ আজ বুধবার (১৭ জুন) দিনগত রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি দুই দলেরই গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ। তাই শুরু থেকেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য থাকবে। ইউরোপের দুই অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী দল হওয়ায় ম্যাচটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে এসেছে দারুণ ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে। টমাস টুখেলের অধীনে তারা বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে এবং একটিও গোল হজম করেনি। আক্রমণভাগে বুকায়ো সাকা, মার্কাস র্যাশফোর্ড এবং হ্যারি কেইনের মতো তারকারা আছেন। যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। মাঝমাঠে জুড বেলিংহাম ও ডেকলান রাইস দলের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মূল ভরসা।
তবে বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ইতিহাস খুব বেশি সুখকর নয়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর তারা বারবার ফেভারিট হয়েও শেষ ধাপে এসে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। তাই এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে শুধু ভালো শুরু নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া আবারও প্রমাণ করেছে তারা বড় টুর্নামেন্টের অন্যতম নির্ভরযোগ্য দল। লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে দলটি বাছাইপর্বে অপরাজিত ছিল এবং মাঝমাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা এখনও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে একটি। মদ্রিচ ও মাতো কোভাচিচ ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আর সামনে ইভান পেরিসিচ ও আন্দ্রেই ক্রামারিচ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে সক্ষম।
ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং বড় ম্যাচে আসা। তারা সাধারণত ধীরে ধীরে ম্যাচে ঢুকে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষকে আঘাত করে। বিশেষ করে ২০১৮ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স এখনও তাদের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস। যেখানে তারা ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল।
এই দুই দলের ইতিহাসও ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া ২–১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায়। যা ইংলিশদের জন্য এখনও একটি তীব্র স্মৃতি। যদিও বিভিন্ন ইউরো ও বাছাইপর্বে ইংল্যান্ড কিছু ম্যাচে জয় পেয়েছে। বড় টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়া সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে থেকেছে।
সবমিলিয়ে এটি একটি সম্পূর্ণ ফুটবলীয় লড়াই একদিকে ইংল্যান্ডের গতি, শক্তি ও আক্রমণভিত্তিক ফুটবল, অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা, কৌশল ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। ফেভারিট ইংল্যান্ড হলেও ক্রোয়েশিয়াকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আর এ কারণেই এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে একটি দুর্দান্ত ও অনিশ্চিত লড়াই।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, মার্ক গুয়েহি, লুক শ, ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহাম, কোবি মেইনু, বুকায়ো সাকা, হ্যারি কেইন, মার্কাস র্যাশফোর্ড
ক্রোয়েশিয়া: ডমিনিক লিভাকোভিচ, জোসিপ স্তানিসিচ, জোসকো গভার্দিওল, ডুজে কালেতা-কার, জোসিপ সুতালো, লুকা মদ্রিচ, মাতো কোভাচিচ, মারিও পাসালিচ, ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রেই ক্রামারিচ, আন্তে বুদিমির

স্পোর্টস ডেস্ক