বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবলপ্রেমীরা
চারদিকে লাল-সবুজের ক্যাম্পাস, আর তার মাঝেই এখন জায়গা করে নিয়েছে নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজের আবেগ। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ছোট্ট এক ফুটবল নগরীতে। শিক্ষার্থীদের মুখে প্রিয় দলের জয়ধ্বনি, হাতে পতাকা, আর ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপ উন্মাদনা।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা ও আনন্দঘন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিজেদের দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কেউ করছেন শোডাউন, কেউ অংশ নিচ্ছেন রঙিন আনন্দ র্যালিতে। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে সেই উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাবি ব্রাজিল ফ্যানস ক্লাব ও আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবের আয়োজন।
তবে এই আয়োজন শুধু র্যালি কিংবা শোডাউনে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আবাসিক হলের আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে বিশ্বকাপ। কে এগিয়ে, কার স্কোয়াড শক্তিশালী, কে তুলবে ট্রফি—এসব নিয়েই চলছে বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক, ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন আর নানা ধরনের সমর্থনমূলক আয়োজন।
র্যালিতে অংশ নিয়ে ব্রাজিল সমর্থক তাসনিয়া তিথি বলেন, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে আমাদের মধ্যে আলাদা এক উচ্ছ্বাস কাজ করছে। সেই আনন্দ থেকেই আজকের এই র্যালির আয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, এবার ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত মিশন হেক্সা সফল হবে।
রাবি ব্রাজিল ফ্যানস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাছিম আহমেদ বলেন, আগামীকাল ভোরে আমাদের প্রিয় দলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে। সেই উপলক্ষে দলকে স্বাগত জানিয়ে এই আনন্দ র্যালি ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, জয় দিয়েই ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের জবাবে নিজেদের উপস্থিতিও জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। খেলা ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশই যেন সবচেয়ে বড় বার্তা দিচ্ছে রাবি ক্যাম্পাস। দল আলাদা হলেও আনন্দ এক—বিশ্বকাপের এই উৎসব শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত অ্যাকাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য।
আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তাই নিজেদের সক্ষমতা নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। প্রতিটি দলেরই নিজস্ব শক্তি ও সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা সবসময় দলগতভাবে খেলে এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। ইনশাআল্লাহ, এবারও আমরা শিরোপা ধরে রাখতে পারব।
আরেক আর্জেন্টিনা সমর্থক ও সংগঠক মো. সজিবুর রহমান বলেন, বিশ্বকাপ এলেই ক্যাম্পাসে অন্যরকম একটা আবহ তৈরি হয়। আমরা শুধু সমর্থন জানাতেই মাঠে নামিনি, বরং এই আনন্দটা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই র্যালিতে অংশ নিয়েছি। আর্জেন্টিনা দল হিসেবে সবসময় চাপের মুহূর্তে ভালো খেলে। তাই আমরা আশাবাদী, এবারও দল প্রত্যাশা পূরণ করে শিরোপা ধরে রাখতে পারবে।
এদিকে খেলা ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশই যেন সবচেয়ে বড় বার্তা দিচ্ছে রাবি ক্যাম্পাস। দল আলাদা হলেও আনন্দ এক—বিশ্বকাপের এই উৎসব শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত অ্যাকাডেমিক জীবনে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক প্রাণচাঞ্চল্য।

আবু ছালেহ শোয়েব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়