নোবিপ্রবির মেগা প্রকল্পে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান নিয়ে অনিশ্চয়তা
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-৩-এর অবশিষ্ট অংশ নির্মাণসহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আপাতত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সরাসরি নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদিত এই মেগা প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন-৩-এর অসম্পূর্ণ অংশের নির্মাণকাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে এখন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এর আগে প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ দাবি জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে সক্রিয় ছিলেন তারা।
নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত দুই দিনব্যাপী এক অনলাইন জরিপে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে এবং নির্মাণকাজের গুণগত মানও নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ভবন-৩-এর নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে, শিক্ষার্থীদের দাবির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় বা অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।
নোবিপ্রবির ডিপিডি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়—সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অথবা উন্মুক্ত দরপত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকায় সরাসরি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ থাকছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রকল্পের জন্য পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত নয়টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। তবে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করতে চাইলে অন্যদের মতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই টেন্ডারে অংশ নিতে হবে।
প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) নির্মাণকাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কাজ দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ নেই। আমরা শুরু থেকেই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী তা সম্ভব নয়।”
তিনি আরো বলেন, “উপাচার্য মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে আমরা আবারো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। কোনো বিকল্প সুযোগ বা সমাধানের পথ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভালো হতো, কারণ তারা তুলনামূলক দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম।”
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত যে প্রতিষ্ঠানই কাজ পাক না কেন, আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা। চলতি মাসেই দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগত কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”
এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, “এ মুহূর্তে কে টেন্ডার পাবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াও এখনো শুরু করা হয়নি। নতুন অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোবিপ্রবির অসম্পূর্ণ একাডেমিক ভবন-৩-এর কাজ সম্পন্ন করাসহ মোট ১১টি প্রকল্পের জন্য ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঢাকা/শফিউল্লাহ/জান্নাত
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ