মেসি ৩ এমবাপে ২ হালান্ড ২, রোনালদো কটা দিবেন?
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
বর্তমান ফুটবলে সেরাদের আলোচনা হলে কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের নাম আসবেই। বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই দুজনই সেটার প্রমাণ রেখেছেন জোড়া গোল করে। কিন্তু দিন শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি! যখন এমবাপে ও হালান্ড নিজেদের গল্প লিখছিলেন, তখন লিওনেল মেসি মনে করিয়ে দিলেন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনায় তার জন্য আলাদা একটি আসন বরাদ্দ আছে। আজ (বুধবার, ১৭ জুন) রাতে হয়ত একই কাতারে নিজের উপিস্থিতি জানান দিবেন আরেক মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে সেটা তো এখনও হয়নি। যারা ইতোমধ্যেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে দিলেন তাদের মধ্যেই এই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকুক।
ক্যারিয়ার ট্রফি, রেকর্ড আর অবিশ্বাস্য অর্জনে পরিপূর্ণ মেসি আবারও ইতিহাসকে নিজের মতো করে লিখলেন আজ সকালে। বয়স ৩৯ ছুঁইছঁই, অথচ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো তুলে নিলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপের মঞ্চে তারচেয়ে বেশি বয়সে আর কেউ হ্যাটট্রিকের দেখা পান নি।
ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই একটি অনন্য রেকর্ডের জন্ম দেন মেসি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রাতে রোনালদোও সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে যাচ্ছেন।
এদিকে মেসি আরেকটি মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। এটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দেশের হয়ে ১৫০ ম্যাচও খেলতে পারেননি অন্য কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলার। তবে মেসির গল্প শুধু দীর্ঘস্থায়িত্বের নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থাকারও। এদিন সেটির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা গেল তার পারফরম্যান্সে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে যে গোলটি করেন, সেটি তাকে এনে দেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে, যা ১৯৬৬ সালের পর থেকে এই আসরের সর্বোচ্চ।
এর মাধ্যমে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েন মেসি। এর আগে এই রেকর্ডে ছিলেন শুধু ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
৩৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলারের রেকর্ড এখন তার দখলে। এই হ্যাটট্রিক তাকে নিয়ে যায় আরেকটি রেকর্ডের খুব কাছাকাছি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলসংখ্যার (১৬) সমতায় পৌঁছে যান তিনি। ৭৯ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া না হলে হয়তো আজই নতুন ইতিহাস লিখে ফেলতেন।
অন্যদিকে সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি এমবাপেকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবে বড় খেলোয়াড়দের বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায় না। ৬৬তম মিনিটে তার গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। পরে ব্র্যাডলি বার্কোলার গোলে ব্যবধান বাড়ে। যোগ করা সময়ে সেনেগাল একটি গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত বক্সের বাইরে ঠেকে এমবাপের দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের জয়। বিশ্বকাপে তার গোল সংকগ্যা এখন ১৪টি, তিনি ক্লোসা এবং মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।
এরপর বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন হালান্ড। আগের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পাঁচ গোল করেও নরওয়েকে মূল পর্বে তুলতে পারেননি তিনি। বস্টনে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। অভিষেকটাকে স্মরণীয় করে রাখতে সময় নেননি নরওয়েজিয়ান তারকা। প্রথমার্ধেই করেন দুই গোল। নরওয়ের ৪-১ ব্যবধানের জয়ে আরেকটি গোলেও অবদান রাখেন তিনি।
এমবাপে, হালান্ড আর মেসির কাজ শেষ। এখন ফুটবল প্রেমীরা তাকিয়ে আছেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদোর দিকে। রোনালদো পারবেন তো জাদু দেখাতে? সময়ের কাছেই এই প্রশ্ন তোলা থাক!
ঢাকা/নাভিদ
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ