• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

তালাক দেওয়ার সময় সাক্ষী না থাকলে তালাক হবে? যা আছে ইসলামে

প্রকাশিত: ২৩:০২, ৯ জুন ২০২৬

আপডেট: ২৩:১০, ৯ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তালাক দেওয়ার সময় সাক্ষী না থাকলে তালাক হবে? যা আছে ইসলামে

মুসলিম সমাজে তালাক নিয়ে নানা প্রশ্ন ও মতভেদ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—তালাক দেওয়ার সময় সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে সেই তালাক কার্যকর হবে কি না? এ বিষয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারদের মতে, স্বামী যদি সজ্ঞানে, সুস্পষ্টভাবে তালাক প্রদান করেন, তাহলে সাক্ষী উপস্থিত না থাকলেও তালাক সংঘটিত হয়ে যায়।

ইসলামি শরিয়তে তালাক একটি বৈধ কিন্তু অপছন্দনীয় ব্যবস্থা। পবিত্র কোরআনের সূরা আত-তালাকে তালাক ও ইদ্দত সংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি সাক্ষী রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো।”

তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, এই নির্দেশনাকে অধিকাংশ আলেম তালাকের শুদ্ধতার শর্ত হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতে বিরোধ ও বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেন।

হানাফি, মালেকি ও শাফেয়ি মাজহাবের অধিকাংশ ফকিহের (যিনি ইসলামি আইন বা ফিকহে বিশেষজ্ঞ) মতে, স্বামী যদি জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন অবস্থায় স্পষ্ট ভাষায় স্ত্রীকে তালাক দেন, তাহলে সাক্ষী না থাকলেও তালাক কার্যকর হবে। তবে সাক্ষী রাখা উত্তম এবং তা পরবর্তী সময়ে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

অন্যদিকে কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমের মতে, কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষী উপস্থিতি তালাক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করে। তাই তারা তালাকের ক্ষেত্রে সাক্ষীর গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। 

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, স্বামী যদি স্ত্রীর সামনে না থাকে এবং স্পষ্টভাবে 'তালাক' শব্দ উচ্চারণ করেন, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যায়। তালাক দেওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রী ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির বা সাক্ষীর উপস্থিতি শর্ত নয়। তালাক সংক্রান্ত বিস্তারিত কিছু জরুরি তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

সাক্ষীর ভূমিকা শরিয়তে: তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য কোনো সাক্ষী থাকা বা কাউকে শোনানো জরুরি নয়। তবে পরবর্তীকালে প্রমাণ হিসেবে বা ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলা এড়াতে সাক্ষ্য রাখা বা তালাকের নোটিশ পাঠানো নিরাপদ।

তালাকের নিয়ত ও শব্দ 
স্পষ্ট শব্দ (সারিহ): স্বামী যদি স্ত্রীকে সরাসরি 'তালাক' শব্দ বলেন (যেমন: 'তোমাকে তালাক দিলাম'), তবে কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্যের প্রয়োজন নেই, তালাক নিশ্চিতভাবে হয়ে যাবে।

ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ (কিনায়া): স্বামী যদি সরাসরি 'তালাক' না বলে অন্য কোনো ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন (যেমন: 'তোমার সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই'), তবে তালাক নিয়তের ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ, বলার সময় যদি তার তালাক দেওয়ার নিয়ত থাকে, তবে তালাক হবে।

ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষী থাকা জরুরি না। স্বামী সজ্ঞানে স্পষ্টভাবে তালাক উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হয়ে যায়। এ ছাড়া স্ত্রীর সামনেই তালাক দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই বলেও জানান তিনি।    

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক জীবনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ আলেম, মুফতি বা ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: