• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মোটরসাইকেলে প্রিয়তমাকে ৬৪ জেলা ঘুরে দেখলেন তাজুল!

কামরুল ইসলাম, নাটোর

প্রকাশিত: ১৭:১০, ১৫ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১২:৪৯, ১৬ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মোটরসাইকেলে প্রিয়তমাকে ৬৪ জেলা ঘুরে দেখলেন তাজুল!

ভালোবাসা কখনো বয়স দেখে না, থেমে থাকে না শারীরিক সীমাবদ্ধতার দেয়ালেও। জীবনের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পুরো দেশ ঘুরে দেখার স্বপ্ন পূরণ করেছেন নাটোরের এক মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলাম। ছোট্ট একটি বাইক, অদম্য সাহস আর গভীর ভালোবাসাই হয়েছে স্বপ্ন পূরণ পাথেয়। স্ত্রীকে সঙ্গী করে বাংলাদেশের ৬৪টি  জেলা ভ্রমণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই দম্পতি।

বয়স কেবল একটি সংখ্যা, তার বাস্তব উদাহরণ নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহিষমারি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক তাজুল ইসলাম। বয়স ৫৬ বছর। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগে ২০১৬ সালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান তিনি। অসুস্থতার ধাক্কা কাটিয়ে নতুন করে জীবনকে উপভোগ করার ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় তার ভ্রমণের পরিকল্পনা।

ছোট শহরের সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলেও শুরু থেকেই ছিল দূর–দূরান্ত  ঘোরার স্বপ্ন। প্রথম মোটরসাইকেল চালানো শুরু করেন ১৯৯৯ সালে। তখন  থেকেই  দেশের প্রকৃতি, মানুষ, পাহাড় নদীকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সংসার, শিক্ষকতা আর দায়িত্বের চাপে  সেই ইচ্ছা দীর্ঘদিন অবদমিত ছিল।

তবে, সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে শুরু হয় তার এই ভ্রমন যাত্রা। বাইক, একটি ব্যাগ, একটি ফোন আর অদম্য মন নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরিশাল, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম। 

এমনকি বাদ যায়নি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটির মতো পাহাড়ি পথও। প্রতিটি সফরে পাশে থেকেছেন স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম। শীত, গরম কিংবা বৃষ্টি সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্বামীর স্বপ্নপূরণে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। এই ভ্রমণ পথে এই দম্পতি পেয়েছেন মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আতিথেয়তা। 

শারীরিক অসুস্থতা যে জীবনের গতিকে থামাতে পারে না, তা প্রমাণ করেছেন তাজুল ইসলাম। এখন তার স্বপ্ন মোটরসাইকেলে চড়ে ভারত, নেপাল ও ভুটান ঘুরে দেখার। তার মতে সীমান্ত শুধু মানচিত্রেই থাকে, ইচ্ছাশক্তির কোনো সীমান্ত নেই।

তাজুল ইসলাম আর ফেরদৌসী বেগমের সংসারে আছেন তিন সন্তান। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মেঝো ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত কাজ করছেন যশোর টেকনোলজি পার্কে, আর ছোট মেয়ে তানজিমা ইসলাম সুচি পড়েন কলেজে।

স্পন্সর বা প্রচারের মোহ নয়, দেশের মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি টানই ছিল তাদের এই যাত্রার প্রেরণা। আধুনিক এই যুগেও ভালোবাসা আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে পথ যত দীর্ঘই হোক, গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব-এই বিশ্বাসই সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই শিক্ষক দম্পতি।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: