তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ব্যারেজ,ঘোষণ প্রধানমন্ত্রীর
শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং তিস্তা অববাহিকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিস্তা নদীতে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক বিভিন্ন বিষয় বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন (স্পার) নির্মাণ ও সংস্কার এবং প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব রয়েছে।
অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকার সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ আন্তর্জাতিক মান এবং সরকারি বিধিমালা অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মজুদ ব্যবস্থাপনা জোরদার, রোগ নজরদারি সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি হামের টিকাদানের আওতা বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ পদ্মা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীসহ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
তিনি বলেন, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে নদীর পানিতে লবণাক্ততা থাকায় বড় আকারের পানি শোধনাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিকল্প জলাধার তৈরির কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।