বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:৪১, ১৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪১, ১৭ জুন ২০২৬

কৃষিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রান্তিক কৃষকই হবেন আগামীর উদ্যোক্তা

কৃষিতে রূপান্তরের লক্ষ্য: প্রান্তিক কৃষকই হবেন আগামীর উদ্যোক্তা

প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, কৃষি খাতকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

‘আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ১১টি উপজেলায় এটি চালু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৮৩২টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি এবং স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শস্য, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়বে, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ রক্ষা পাবে। পাশাপাশি এখান থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি করা হবে, যাতে সুপেয় পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।