• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পল্লী চিকিৎসককে মারধর করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:১২, ১৭ জুন ২০২৬

আপডেট: ১১:১৯, ১৭ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
পল্লী চিকিৎসককে মারধর করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক পল্লী চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে মারধর, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আরিফ হোসেন বাবু (৩৫) মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের অনুসারী ও স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত।

গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার গোহাট্টা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক মো. কালামের ভাগ্নে ও সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. কালাম গোহাট্টা বেলেরথলি এলাকায় পল্লী চিকিৎসক ট্রেনিং সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সোমবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে গোহাট্টা জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে যুবদল নেতা আরিফ হোসেন বাবুর নেতৃত্বে মো. শাহীন (২৫), মো. সুমন (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাঁর গতিবিধি রোধ করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পথরোধ করেই চিকিৎসক কালামকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তাঁর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করার পর অভিযুক্তরা চিকিৎসকের কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই টাকা না দিলে ট্রেনিং সেন্টারটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কালাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর আদায় করে।

ওই স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়:- আসামিরা কালামের নিকট ২ লাখ টাকা পাবেন এবং তা দুই কিস্তিতে (১৬ জুন ৫০ হাজার ও ১৯ জুন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর, বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা নিলে খুন করা হবে- এমন হুমকি দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আসামিদের অব্যাহত হুমকি এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টার কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: