• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সোলার করমুক্ত ঘোষণা, কিন্তু পাল্টে গেল এসআরওতে!

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ১৭ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৯:০৩, ১৭ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সোলার করমুক্ত ঘোষণা, কিন্তু পাল্টে গেল এসআরওতে!

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোলারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি-সম্পৃক্ত খাতগুলোকে করের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর বিপরীতে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ওপর বাড়ানো হয়েছে করের বোঝা। বিষয়টি দেশের পরিবেশবাদীদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সৌরবিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ করার কথা বলা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এসআরওতে এই শুল্কমুক্তি শর্তসাপেক্ষ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

 

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌর বিদ্যুৎখাতের প্রসারের জন্য এই খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূণ্য শতাংশ করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এই খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রজ্ঞাপনটি ৩০ জুন, ২০৩১ পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেছি।

কিন্তু এই করছাড়ের বিষয়ে গত ৮ জুন একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। সেই প্রজ্ঞাপনে দেওয়া এসআরও-তে বলা হয়েছে, সরকার, কাস্টমস আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ২৫ এর উপ-ধারা (১), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ১২৬ এর উপ-ধারা (১) এবং আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) এর ধারা ৭৬ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, জনস্বার্থে, নবায়নযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের লক্ষ্যে, উক্ত আইনের প্রথম তফসিলভুক্ত পণ্যসমূহের উপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, যদি থাকে, আগাম কর এবং ২% (দুই শতাংশ) এর অতিরিক্ত অগ্রীম আয়কর হইতে নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, অব্যাহতি প্রদান করিল।

শর্তগুলো হলো-  (১) এই প্রজ্ঞাপনের অধীন অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণের লক্ষ্যে আমদানিকারক-কে নিম্নের যে কোনো প্রকৃতির হইতে হইবে, যথা:- (ক) VAT Compliant উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনপূর্বক নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট-মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করিবেন; এবং (খ) Renewable Energy Service Company (RESCO) যা নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনপূর্বক সুনির্দিষ্ট Power Purchase Agreement এর আওতায় অন্য কোনো পক্ষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন।

(২) এই প্রজ্ঞাপনের অধীন অব্যাহতি সুবিধা কেবল সেইসব VAT Compliant নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যাহারা এই প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সকল শর্ত পরিপালনপূর্বক আমদানিকৃত পণ্য বা যন্ত্রাংশ বা উপকরণ দ্বারা স্থানীয়ভাবে নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি উৎপাদন ও সরবরাহ করিয়া থাকেন।

(৩) আমদানিকৃত পণ্য চালান আমদানির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে ইন্সটলেশন ও কমিশনিং সম্পন্নপূর্বক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হইবে এবং আমদানিকৃত পণ্য বা যন্ত্রাংশ বা উপকরণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার বা বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা হইবে না মর্মে ৩০০ (তিনশত) টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মোতাবেক অঙ্গীকারনামা শুল্কায়নকালে প্রদান করিতে হইবে।

(৪) Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA) কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য দ্বারা কী ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হইবে তাহার প্রত্যয়িত একটি বিশদ লে-আউট, পণ্যের বিবরণ, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও সুপারিশ মোতাবেক শুল্কায়নের সময় প্রত্যেক আমদানিকারককে কাস্টমস স্টেশনে দাখিল করিতে হইবে।

(৫) নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক (Renewable Energy Service Company) পণ্য আমদানিকালে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সপক্ষে Power Purchase Agreement এর প্রত্যয়িত কপি শুল্কায়নকালে দাখিল করিতে হইবে।

(৬) আমদানিকৃত সোলার প্যানেল, লিথিয়াম ব্যাটারি সেল, লিথিয়াম ব্যাটারি সম্পূর্ণ নূতন মর্মে Manufacturer's Certificate থাকিতে হইবে এবং লিথিয়াম ব্যাটারি সেল অথবা লিথিয়াম ব্যাটারি IEC-62619:2022 স্ট্যান্ডার্ডের হইতে হইবে যাহার সপক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত (Accredited) কোনো সংস্থা বা ল্যাবরেটরি কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র শুল্কায়নকালে দাখিল করিতে হইবে।

(৭) আমদানিকৃত লিথিয়াম ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম IEC-62933:2017 স্ট্যান্ডার্ডের হইতে হইবে এবং তাহার সপক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত (Accredited) কোনো সংস্থা বা ল্যাবরেটরি কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র শুল্কায়নকালে দাখিল করিতে হইবে।

(৮) আমদানিকৃত পণ্য চালান ইন্সটলেশন ও কমিশনিং করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে SREDA হতে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক উহার সপক্ষে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহপূর্বক সর্বশেষ পণ্য চালান আমদানির ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তাহা সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কমিশনার অব কাস্টমস এর নিকট দাখিল করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে বর্ণিত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব না হইলে আমদানিকারক কর্তৃক যৌক্তিক কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কমিশনার অব কাস্টমস, প্রয়োজনে, অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন: আরও শর্ত থাকে যে, কমিশনার কর্তৃক বর্ধিত সময়ের মধ্যেও SREDA কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করিতে না পারিলে আমদানিকারক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস: নীতি ও আইসিটি) বরাবর আবেদন করিতে পারিবে এবং উক্ত আবেদন পর্যালোচনায় যৌক্তিক মনে করিলে তিনি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৯) এই প্রজ্ঞাপনের অধীন প্রদত্ত অব্যাহতি সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্য বা যন্ত্রাংশ বা উপকরণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার বা বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না।

(১০) কোনো উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই প্রজ্ঞাপনের শর্ত লঙ্ঘন করিলে এবং উক্ত লঙ্ঘনজনিত কারণে রাজস্ব ক্ষতি হইলে সেইক্ষেত্রে তাহার বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক আইন, ২০১২ এর বিধান অনুযায়ী ও প্রযোজ্যক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

(১১) আমদানি ও শুল্কায়ন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়সহ উপরে বর্ণিত শর্ত পরিপালন করা হইয়াছে কীনা তাহা সংশ্লিষ্ট শুল্কায়নকারী কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই করিয়া নিশ্চিত হইতে হইবে, এবং শুল্কায়ন তত্ত্বাবধানকারী সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার বা সহকারী কমিশনার পর্যায়ে শুল্কায়ন অনুমোদন করাইতে হইবে।

এ বিষয়ে একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন বিভাগের ম্যানেজার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর জোট ‘জেটনেট বিডি’র সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বাংলাভিশনকে বলেন, এবারের বাজেটে বলা যেতে পারে যে আমাদের প্রত্যাশার চাইতে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি বাজেট বক্তৃতার মধ্যদিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশানসহ আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করছি আমরা সবাই এই বাজেট নিয়ে বেশ আপ্লুত হয়েছিলাম। আমরা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদও দিয়েছি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এসআরও দেখে আমরা হতাশ হলাম। ট্যাক্স-ভ্যাট তুলে নেওয়ার যে ঘোষণা বাজেটে এসেছিল সেটা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু বাজেট বক্তৃতার একদিন পর সরকারের একটি এসআরও সামনে এসেছে। এই এসআরওটা আমাদের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে। বাজেটের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই এসআরওটা আমাদের কাছে এক মনে হচ্ছে না। 

এসআরও-তে দেওয়া শর্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসআরওতে বলা হচ্ছে- যারা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন এবং যার চুক্তির মাধ্যমে সেটা সরকারের কাছে বিক্রি করবেন এবং যারা নিজেরা ব্যবহারের জন্য লাগাবেন শুধু তারাই আমদানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাবেন। কিন্তু আমদানির যে জটিল প্রক্রিয়ার কথা সেখানে বলা হয়েছে সেই প্রক্রিয়া পূরণ করে ক্ষুদ্র আমদানিকারদের পক্ষে এইসব সুবিধা পেয়ে আমদানি করা সম্ভব হবে না। অথচ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সোলারের যতটুকু বিস্তার হয়েছে তার পুরোটুকুই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা হোম সোলার ব্যবহারকারীদের দ্বারাই হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া মেনে তাদের পক্ষে করছাড় পাওয়া সম্ভব হবে না।

এই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আপনি একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিবেন, কিন্তু বড় অংশ সেই সুবিধা পাবে না এটা বৈষম্য। আমি আবারও বলবো বাজেটের যে প্রতিশ্রুতি সে অনুযায়ীই এসআরওটা আসতে হবে। এখানে সোলারের সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীরা যেন সমান সুযোগ পায় এটা সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। যে এসআরওটা এসেছে এটির আলোকে যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে সরকারের যে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করা কখনোই সম্ভব হবে না। যদি এটা ওপেন করে দেওয়া হয় তাহলেই সোলারের একটি বড় বিপ্লব দেখা যাবে।

বাজেটে এই করছাড় যথাযথভাবে নিশ্চত করা হলে বাংলাদেশকে খুব দ্রুত জ্বালানি সক্ষমতার দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে তরুণ নেতৃত্বাধীন পরিবেশবাদী সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বড় অংশই জীবাষ্ম জ্বালানি নির্ভর ছিল, সবশেষ আমরা পারমানবিক শক্তির দিকেও গিয়েছি। কিন্তু আমরা তরুণরা এ নিয়ে হতাশ ছিলাম। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কি দূষণের বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে এটি নিয়ে আমাদের শঙ্কা ছিল। তবে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে যেভাবে নবায়নযোগ্য শক্তিকে করমুক্ত ঘোষণা করে উৎসাহিত করা হয়েছে আমরা আশা করি বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ জ্বালানি রূপান্তরের পথে হাটতে শুরু করবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমাদের জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতেও বেশিদিন সময় লাগবে না। এজন্য আমরা বাজেটে নবায়নযোগ্য শক্তিকে করমুক্তি দেওয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তরকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এবং যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই বাস্তবানের আশা রাখি।   

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বাংলাভিশনকে বলেন, বাজেটের মাধ্যমে কোনো একটি সরকারের কোনো একটি সেক্টরে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছে সেটা বুঝা যায়। বহুদিন পর আমরা এমন একটি বাজেট দেখতে পেলাম যেটিতে বর্তমান সরকারের পরিবেশ রক্ষার কমিটমেন্টের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ মোকাবিলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যে কয়টি প্রধান সমস্যা রয়েছে সেগুলো এই বাজেটে উঠে এসেছে। এখানে জীবাষ্ম জ্বালানির বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে করমুক্তির মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়েছে। দূষণকারী যানবাহনের বিপরীতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়িকে করমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনের বেবি ট্যাক্সি উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে ভয়াবহ বায়ুদূষণ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। তার পরের বছর পলিথিন নিষিদ্ধের মতো দূর্দান্ত সিদ্ধান্তও বিএনপি সরকারই নিয়েছিল। বিএনপির এবারের বাজেটে পরিবেশ খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ইলেক্ট্রনিক্স ভেহিক্যালকে করমুক্ত ঘোষণার এই নীতি আমাদেরকে সেই পুরোনো আমলের বিএনপির কথাই স্মরণ করছে। আশা করি শুধু বাজেটে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

বাজেটে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি হুবহু ও যথাযভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে অনুরোধ জানান এই পরিবেশ বিজ্ঞানীও।

বিভি/কেএস/পিএইচ

মন্তব্য করুন: