শেষের রোমাঞ্চে দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্সের
শক্তি-সামর্থের বিচারে ফ্রান্সের চেয়ে অনেক পিছিয়ে সেনেগাল। কিন্তু প্রথমার্ধে তেমনটা দেখা গেল না। নিরুত্তাপ প্রথমার্ধে ছড়ি ঘোরাল সেনেগালই। পরিস্থিতি বদলাল দ্বিতীয়ার্ধে, খোলস ছেড়ে বের হলো ফ্রান্স। দারুণ সব আক্রমণে কাঁপিয়ে দিল সেনেগালের রক্ষণ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর এই অর্ধে বল জালে জড়াল মোট চারবার। সব রোমাঞ্চ শেষে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল ফ্রান্স।
আজ বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ফ্রান্স।
ম্যাচে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় সেনেগাল। সপ্ত মিনিটে নেওয়া সেই আক্রমণ অবশ্য ফ্রান্সের জন্য বিপদের কিছু হয়নি।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল সেনেগাল। কিন্তু এবার তাদের কপাল পুড়ে গোলবারের বাঁধায়। বক্সের ডানদিক থেকে নেওয়া নিকোলাস জ্যাকসনের শট আটকে যায় গোলবারে। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ইসমাইলা সার-এর শট চলে যায় গোলবারের বাইরে দিয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা পেয়েছিল সেনেগাল। বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ছয় গজ বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়িয়েছিল জ্যাকসন। কিন্তু ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ইসমাইলা সার ফাঁকা জালেও বল জড়াতে পারেননি। উঁড়িয়ে গ্যালারিতে মারেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। নিজেদের অর্ধ থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শট নেন দিজিরে দুয়ে। তবে তার শট চলে যায় বাইরে দিয়ে।
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে সবচেয়ে জোড়ালো আক্রমণ হানে ফ্রান্স। বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন মাইকেল ওলিসে। গোলের জন্য শটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে এসে সেটি আটকে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদোয়ার্ড মেন্ডি।
এক মিনিট পরই প্রতিআক্রমণে ওঠে সেনেগাল। তবে ফ্রন্সের কঠিন ডিফেন্সের ফাঁকে শটই নিতে পারেননি সেনেগালের জ্যাকসন।
ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে দ্বিতীয়বার ফ্রান্সকে হতাশ করেন সেনেগালের গোলরক্ষক। বক্সের সামনে ভুল পাসে বল পেয়ে যান এমবাপ্পে। বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে শটও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এমবাপ্পের দুর্বল শট আটকে দেন মেন্ডি।
দুই মিনিট পর বল নিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন এমবাপ্পে। পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকেও যান তিনি। শেষ মুহূর্তে স্লাইডিং ট্যাকল করেন সাদিও মানে। পেনাল্টির জোড়ালো আবেদন করে ফ্রান্স। তবে ভিএআর মনিটর দেখে সেটি না করে দেন রেফারি।
ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্স চেরা পাস বাড়িয়েছিলেন ওলিসে। তবে সেটির নাগাল পাননি এমবাপ্পে। স্লাইড করে বল গ্লাভসবন্দি করেন গোলরক্ষক মেন্ডি। পরের মিনিটে হার্নান্দেজের জোড়ালো শট আটকে যায় সেনেগালের ডিফেন্সে।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে আর ফ্রান্সকে আটকে রাখা যায়নি। ডানপ্রান্ত থেকে বক্সের মধ্যে দারুণ ক্রস বাড়ান ওলিসে। এবার আর ভুল করেননি এমবাপ্পে। পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে গতির ঝলকে ছিটকে দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান তিনি।
এক মিনিট পরই ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়েছিলেন জ্যাকসন। কিন্তু সেটি কাঁটা পড়ে অফসাইডের জালে।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দেম্বেলেকে তুলে ব্র্যাডলি বার্কোলাকে নামান ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। মাঠে নেমেই নিজের ঝঁলক দেখান তিনি। ৮২তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে অ্যাড্রিয়েন রাবিওটের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে গতির ঝলকে পেছনে ঢুকে পড়েন বক্সে। এগিয়ে আসা সেনেগালের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
আট মিনিট যোগ করা সময় রূপ নিল চরম নাটকীয়তায়। চতুর্থ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে সেনেগাল। বদলি নামা দুই ফুটবলারের রসায়নে প্রথম গোলের দেখা পায় সেনেগাল। এলিমান এনদিয়ায়ের পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন ইব্রাহীম এমব্রায়ে। বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান তিনি। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনান বলের লাইনে থাকলেও সেটি আটকাতে পারেননি। তার হাত ছুঁয়ে বল চলে যায় জালে।
পরের মিনিটেই আবারও সেনেগালের জাল কাঁপান এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট টপকর্ণার দিয়ে জালে জড়ায়। গোলরক্ষক মেন্ডি লাফিয়ে উঠলেও বলের নাগাল পাননি। ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

স্পোর্টস ডেস্ক