যে ইলা মিত্রের নামে কেঁপে উঠত শোষকের অন্তর, তাকেই কি ভুলতে বসেছি?
বাংলার কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে সাহস আর প্রতিবাদের যে নামটি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে, তিনি ইলা মিত্র। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক। অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়াবহতা সয়েও মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে কখনো পিছিয়ে যাননি এই সংগ্রামী নেত্রী।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিতে ইলা মিত্রের সেই ত্যাগময় অধ্যায় কিছুটা ঝাপসা হয়ে এলেও ইতিহাসকে নতুন করে জীবন্ত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলা-র নেজামপুর ইউনিয়নের রওতাড়া গ্রামে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয় ‘ইলা মিত্র স্মৃতি সংগ্রহশালা’।
মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে ইলা মিত্র-এর সংগ্রামী জীবনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে। সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে তার শৈশব, রাজনৈতিক জীবন ও তেভাগা আন্দোলন-এর বিভিন্ন পর্যায়ের ছবি, দলিল ও প্রতীকী নিদর্শন। দর্শনার্থীরা এখানে এসে অনুভব করতে পারেন সেই সময়ের শোষণবিরোধী সংগ্রামের বাস্তব চিত্র।
স্থানীয়দের মতে, এই সংগ্রহশালাটি শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি এই এলাকার গর্ব। তবে পর্যটকদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আবাসনের ব্যবস্থা জরুরি।
প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন, আর তাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে ইলা মিত্রের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস।
এই সংগ্রহশালাটি শুধু ইতিহাস সংরক্ষণ নয়, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ ও কৃষক আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করছে। এটিকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান উপজেলা প্রশাসন।
সট – সুলতানা রাজিয়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাচোল |
নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার বাতিঘর—ইলা মিত্র’র ত্যাগ ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে দেখাচ্ছে অধিকার আদায়ের পথ। ইতিহাসের এই আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে সচেতনতা, জাগিয়ে রাখছে সংগ্রামের চেতনা।
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: