আম-কাঁঠালের মৌসুম, কতটুকু খেতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরা
গ্রীষ্ম এলেই বাজার ভরে ওঠে রসালো আম আর সুগন্ধি কাঁঠালে। ফলপ্রেমীদের কাছে এই দুই ফলের আবেদন আলাদা। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মৌসুমটি অনেক সময় দ্বিধারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় ফলগুলো খাওয়া যাবে কি না, গেলেও কতটুকু—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায় অনেকের মনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস থাকলেই আম বা কাঁঠাল খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। বরং সঠিক পরিমাণ ও নিয়ম মেনে খেলে এসব মৌসুমি ফলের স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই উপভোগ করা সম্ভব।
কেন সতর্কতা জরুরি?
আম ও কাঁঠাল—দুই ফলেই প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তবে এসব ফলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ, যা শরীরের জন্য উপকারী।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়; বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
আম কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
একজন ডায়াবেটিস রোগী একবারে প্রায় আধা কাপ বা ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম পরিমাণ আম খেতে পারেন। ছোট একটি আমের অর্ধেক অংশও এই পরিমাণের কাছাকাছি হতে পারে।
আম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়া। যেমন দুপুর বা বিকালের নাস্তায় আমের সঙ্গে কিছু বাদাম বা চিনি ছাড়া দই খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কমে।
কাঁঠাল খাওয়ার নিয়ম
কাঁঠালেও প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। তাই একসঙ্গে বেশি না খেয়ে ৪ থেকে ৫ কোয়া কাঁঠাল খাওয়াই ভালো। কাঁঠাল খাওয়ার পর অন্য কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে মোট শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকেই ফলের জুস বা শেককে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুসে ফলের আঁশ কমে যায় এবং শর্করা দ্রুত রক্তে মিশে যায়। তাই জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়াই উত্তম।
এ ছাড়া খালি পেটে আম বা কাঁঠাল খাওয়া, একসঙ্গে অনেক বেশি ফল খাওয়া কিংবা ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি যোগ করাও এড়িয়ে চলা উচিত।
নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝুন
সব মানুষের শরীর একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। তাই আম বা কাঁঠাল খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে বোঝা যায়, ফলটি শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর মাধ্যমে নিরাপদ পরিমাণ নির্ধারণ করাও সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে আম ও কাঁঠাল খাওয়া নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। তবে পরিমাণের দিকে নজর রাখতে হবে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে।
গ্রীষ্মের এই জনপ্রিয় ফল দুটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সচেতনতা ও সংযম থাকলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন মৌসুমের সেরা স্বাদ।
বিভি/এসজি



মন্তব্য করুন: