• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

হারানো গৌরব কি ফেরাতে পারবে ‘ইউরোপিয়ান পাওয়ার হাউজ’ চেক প্রজাতন্ত্র

জোবায়ের আহমেদ

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ৭ জুন ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৯, ৭ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হারানো গৌরব কি ফেরাতে পারবে ‘ইউরোপিয়ান পাওয়ার হাউজ’ চেক প্রজাতন্ত্র

ইতিহাস বলে ফুটবলের বড় আসরে দেশটির রয়েছে সমৃদ্ধ অতীত। ১৯৩৪ ও ১৯৬২ এর বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়ার তকমা অর্জন করে দেশটি। ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে স্বাগতিক ইতালির কাছে হেরে শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি দেশটি। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরেও রানার্স-আপ হয় দলটি। সেসময় ব্রাজিলের কাছে হেরে শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি দলটির; দলটি হলো ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক সময়ের পাওয়ার হাউজ খ্যাত চেকোস্লোভাকিয়া; মধ্য ইউরোপের ভূ-বেষ্টিত  দেশটি বর্তমান বিশ্বে চেক প্রজাতন্ত্র বা চেকিয়া নামে পরিচিত।

ফুটবলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের মতো রাষ্ট্র হিসেবেও দেশটির রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অতীত। সময়ের পরিক্রমায় নানা ভাঙ্গা গড়ার মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে হালের চেক প্রজাতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছে । স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময়সীমায় দেশটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথক নামে ফুটবলের বড় আসরগুলোতে অংশগ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৩০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপের যতোগুলো আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে সবগুলো আসরেই দেশটি চেকোস্লোভাকিয়া নামে অংশগ্রহণ করে। কারণ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত দেশটি ''কিংডম অব বোহেমিয়া'' নামে পরিচিত ছিলো, যা ছিলো অস্ট্রো - হাঙ্গেরিয়ান ডুয়াল মোনার্কির অংশ। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে এ ভূ-খণ্ডটির নামকরণ করা হয় চেকোস্লোভাকিয়া প্রজাতন্ত্র এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয় থমাস মাসারিক। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দুই বার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে শিরোপা অধরাই থেকে যায় দেশটির। তবে, বিশ্বকাপে না পারলেও ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ আসর অর্থাৎ ইউরো ফুটবলের শিরোপার স্বাদ পেয়েছে দেশটি। ১৯৭৬ সালের ইউরো ফুটবলের ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা।

১৯৯০ বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হওয়ার তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার কারণে দেশটিতে আবারো পটপরিবর্তন হয়; চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙ্গে চেক রিপাবলিক বা চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়া নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে। ইতিহাসে এটি ''ভেলভেট ডিভোর্স'' নামে পরিচিত। ১৯৯৩ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন আসরে দেশটি চেক প্রজাতন্ত্র বা চেকিয়া নামে অংশগ্রহণ করছে। চেক প্রজাতন্ত্র নামকরণের পর দেশটির সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৯৬ সালের ইউরো ফুটবলের আসরে দ্বিতীয় অবস্থান অর্থাৎ রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের এক সময়ের পাওয়ার হাউজ খ্যাত এ দলটি ১৯৯৮ ও ২০০২ ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে কোয়ালিফাই করতে পারেনি। তবে, দেশটি ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ালিফাই করতে পারলেও ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আবার খেলছে চেক প্রজাতন্ত্র বা চেকিয়া।

তবে কি এবার বিশ্ব ফুটবলের আসরে সমর্থকদের উইন্ড অব চেইঞ্জের ধ্বনি শোনাতে পারবে জোসেফ মাসোপুস্ট, মিলান বারোস, আন্তোনিন পানেনকা (পানেনকা শটের প্রবক্তা), পাভেল নেদভেদ, পিওতর চেক ও থমাস রসিস্কির চেক রিপাবলিক।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: