সুবর্ণাকে ভালোবেসে আবুধাবি থেকে, শরীয়তপুরে ছুটে এলেন দুবাইয়ের পুলিশ
ভিন্ন দুই দেশ, ভিন্ন দুই সংস্কৃতি। হাজারো কিলোমিটারের দূরত্বও থামাতে পারেনি তাদের ভালোবাসাকে। আবুধাবির একটি পার্কে শুরু হওয়া পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব, প্রেম আর অবশেষে তার পরিণয় । ভালোবাসার টানে সূদুর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে চলে এসছেন দুবাই পুলিশে কর্মরত ও ৩ সন্তানের জনক সলেমান।
শরীয়তপুরের জাজিরার তরুণী সুবর্ণা খান এখন দুবাইয়ের নাগরিক সলেমানের জীবনসঙ্গী। সোমবার জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ের আয়োজন। ভিন্ন দুই দেশের দুই মানুষের মিলনকে ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে পুরো এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে চাকরির উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে পরিচয় হয় সলেমানের সঙ্গে। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় রূপ নেয় ভালোবাসায়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিয়েকে কেন্দ্র করে সুবর্ণার বাড়িতে ছিল ব্যাপক আয়োজন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রায় দুই হাজার অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।
রবিবার রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের সব কার্যক্রম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি সম্পর্কে সুবর্ণা ও তার পরিবার আগে থেকেই অবগত ছিলেন। পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে অন্যদিকে, দুবাই পুলিশে কর্মরত সলেমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে বিয়েকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কেউ দেখছেন ভালোবাসার জয় হিসেবে, আবার কেউ চাইছেন মেয়েটির ভবিষ্যৎ যেন সুখের হয়।
দুই বছর আগে আবুধাবির এক পার্কে শুরু হয়েছিল যে পরিচয়, তা আজ পূর্ণতা পেল বিয়ের মাধ্যমে। হাজার মাইল দূরের দুই দেশের দুই মানুষকে এক করেছে ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকল শরীয়তপুরের জাজিরার মানুষ।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: