হ্যাটট্রিকের দিনে মেসি কি সত্যিই ‘লাল কার্ড’ পাওয়ার ফাউল করেছিলেন?
আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক করে ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে একটি ফাউলের পর মেসিকে মাঠে থাকতে দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ম্যাচ পরিচালনা।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে করেন দ্বিতীয় গোল। এরপর বদলি হওয়ার ঠিক আগে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদনও পান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে বিতর্কিত ঘটনা। তখন আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে এগিয়ে। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ের পেছনে মেসির বুটের স্টাড আঘাত করে। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।
ঘটনাটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনা করলেও গুরুতর ফাউল হিসেবে লাল কার্ডের সুপারিশ করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ফুটবলপ্রেমীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই মুহূর্তের ভিডিও।
অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে একই ঘটনায় লাল কার্ড দেওয়া হতো কি না।
এক সমর্থক লিখেছেন, “এটি পরিষ্কার লাল কার্ডের ঘটনা ছিল, কিন্তু ভিএআর দেখার পরও হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “মেসি আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারের পায়ে ভয়ংকর ট্যাকল করেও শাস্তি পেলেন না।”
আরেক ভক্ত বলেন, “এটা লাল কার্ড হওয়ার মতো অপরাধ। এমনকি মেসিও বুঝেছিলেন তিনি ভুল করেছেন, কিন্তু তাকে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি।”
ইএসপিএনের বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো মোরেনো ম্যাচ শেষে বলেন, ঘটনাটি “শতভাগ লাল কার্ডের যোগ্য” ছিল। তার মতে, “এটি সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে বড় তারকারা অনেক সময় বাড়তি সুবিধা পান।”
তবে মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের আলোচনায় দ্রুতই চাপা পড়ে যায় ফাউলের বিতর্ক।
এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এমন কোনো অঘটনের সুযোগ দেয়নি দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচের দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে ছয় আসরে ১৫ গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর রেকর্ডেও ভাগ বসান। হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, যা তাকে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডের সমান করেছে। সূত্র: সেভেন নিউজ
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: