• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ইতালিতে কঠোর অভিবাসন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শুক্রবার থেকে কার্যকর

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ১১ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইতালিতে কঠোর অভিবাসন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শুক্রবার থেকে কার্যকর

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে ইতালি। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া ‘রি-ইমিগ্রেশন ডিক্রি’ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।

ইতালি সরকারের দাবি, নতুন আইনের লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসন কমানো, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, কঠোর এই নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইতালিতে প্রবেশকারী বা বৈধ আবাসিক মর্যাদা না থাকা ব্যক্তিদের বিশেষ ডিটেনশন সেন্টার বা সীমান্ত ক্যাম্পে রাখা হতে পারে। পরিচয় যাচাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও আশ্রয় আবেদন মূল্যায়নের জন্য তাদের সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা পাবে কর্তৃপক্ষ।

এ সময় আবেদন বাতিল হলে দ্রুত বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

শিশুসহ পরিবারগুলোর জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হলেও বয়স যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষার ক্ষেত্রে কঠোরতা বাড়ানো হচ্ছে। একা আসা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডাবলিন রেগুলেশনের আওতায় যেসব অভিবাসীর প্রথম নিবন্ধন অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে হয়েছে, তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ‘তৃতীয় নিরাপদ দেশ’ নীতির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। কোনো আশ্রয়প্রার্থী নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত কোনো দেশ হয়ে ইতালিতে প্রবেশ করলে তাকে সেই দেশেই ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং আলবেনিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং দ্রুত বহিষ্কারের নীতি যুদ্ধ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতালির নতুন এই অভিবাসন নীতি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় নয়, ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এর মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলো যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে, সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: