হৃদয়ের লুকানো বর্ণলিপি
ছবি: এআই
প্রত্যাশাহীন সময়ে হঠাৎ ঋতুগুচ্ছ
ভিড় জমায় জরাজীর্ণ বৃক্ষের ছায়ায়,
বৃক্ষ কি কভু ভালোবাসার বিনিময়ে
নিজের শিকড় বিসর্জন দিয়েছে?
নদীও জানে সব স্রোতে নিজস্বী নেই,
তীরের বাধায় উতলা কিছু ঢেউ।
শান্ত জলের নীরব প্রবাহের সাধনায়
জলরাশি পৌঁছে শেষে সমুদ্র গভীরে,
নিজস্বী ঢেউ আঁকে নিজের বর্ণলিপি।
বহু জাতের পাখি বাসা বাঁধে বনে,
বসতি গড়ার স্বপন কারো সনে।
চোখের ভাষা, মুখের অস্পষ্ট বুলিতে
সারি সারি বৃক্ষ যেন নীরব আবাসস্থল।
আমিও দেখেছি—
কিছু চোখ জলের মতো স্বচ্ছ, মায়াবী,
কিছু চোখে জমে থাকে রকমারী নকশা।
পাহাড় যেমন দূর থেকেও বোঝে—
বৃষ্টির মেঘ কালো নয়, বরং স্বচ্ছ ফটিক হাসে,
আর কৃষ্ণ মেঘ তো ধ্বংসের পূর্বাভাস!
জানি তো জোৎস্না সবার প্রিয় হয় না,
ওর কালো দাগে আঁধার কারো সয় না,
ভালোবাসা পাল্টে সহানুভূতির আঁধারে
কেউ রঙ বদলায় ঋতু বৈচিত্র্যের মতো।
অনেক নক্ষত্র আছে—
যাদের আলো রয়ে যায় দূর সীমানায়।
কোনো প্রিয় মুখ হৃদয়ে স্পন্দন মাখে,
ব্যস্ত নগরের ইট-পাথরের আড়ালে
আশাতীত ভাবনার ফুল ফুটাতে চায়।
সংগীত বন্দি করতে চায় তার স্রষ্টাকে,
কবি’রাও শব্দের অবরোধে আবদ্ধ হয়ে
আটক রাখতে চায় কল্পিত কাব্যরানীকে,
আর সত্যিকারের সাহিত্য বুনো বাতাসের মতো—
ছুটতে থাকে বোহিমিয়ান দিগন্তে,
তাকে বাঁধা কি যায় নিয়মের বেড়াজালে?
কারণ, যে শব্দ জন্ম নেয় হৃদয়ের গভীরে,
সে ঠিকই বেঁচে থাকে সৃষ্টি-নিয়ম চক্রে,
শিকলে নয়, শুধু কাব্যিকতায়
বাঁধা যায় না যেথা তার বসতি হয় যুগযুগান্তর।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: