• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মেসিকে কার্ড না দেখানোয় ক্ষোভ, কেউ কেউ বলছেন ‘বিশ্বকাপ সাজানো’

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৭ জুন ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেসিকে কার্ড না দেখানোয় ক্ষোভ, কেউ কেউ বলছেন ‘বিশ্বকাপ সাজানো’

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরি হ্যাটট্রিকে তিনি ছুঁয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। রেকর্ড স্পর্শ করার পর চারদিকে চলছে মেসি বন্দনা। তবে এই উৎসবের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে বিতর্ক।

সমর্থকদের একটি অংশের অভিযোগ, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটি ভয়ংকর ট্যাকলের পরও মেসি লাল কার্ড থেকে বেঁচে গেছেন। তাদের দাবি, একই ঘটনা অন্য কোনো খেলোয়াড় ঘটালে শাস্তি এড়াতে পারতেন না।

৩৮ বছর বয়সী মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখলেন অসাধারণ পারফরম্যান্সে। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর সাড়ে তিন বছর পর আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে নেমে প্রথম ম্যাচেই তুলে নিলেন হ্যাটট্রিক।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই মেসির একটি শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে ১৭তম মিনিটে আর ভুল করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ১-০ গোলে।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ের পেছনে মেসির বুটের স্টাড আঘাত করে। ব্যথায় মাটিতে পড়ে যান মান্দি।

যদিও ম্যাচের রেফারি শিমন মারচিনিয়াক এবং ভিএআর কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেননি। ফলে মেসিকে কোনো কার্ড ছাড়াই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ফুটবলভক্ত। তাদের দাবি, মেসি না হলে এমন ট্যাকলের জন্য যে কোনো খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হতো।

এক সমর্থক লিখেছেন, “বিশ্বমঞ্চে এমন ট্যাকলের পরও শাস্তি না পাওয়া ফুটবলের জন্য ভালো বার্তা নয়।”

আরেকজনের মন্তব্য, “এটা পরিষ্কার লাল কার্ডের মতো ঘটনা ছিল। অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে অবশ্যই শাস্তি পেতেন।”

আরেক ভক্ত লিখেছেন, “বিশ্বাস করতে পারছি না, এমন ট্যাকলের পরও কোনো কার্ড দেখানো হলো না।”

কেউ কেউ আরও কড়া মন্তব্য করে বলেন, “অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে সরাসরি মাঠের বাইরে যেতে হতো।”

ইএসপিএনের বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো মোরেনো ম্যাচ শেষে বলেন, ঘটনাটি “শতভাগ লাল কার্ডের যোগ্য” ছিল। তার মতে, “বিশ্বকাপে যে বড় তারকারা অনেক সময় বাড়তি সুবিধা পান, সেই ধারণাকে আরও স্ট্রং হয়ে গেল।

আরেকটা বড় বিষয় ফিফার বাণিজ্য। মেসির লালকার্ড মানে আসরের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে। দর্শক চাহিদা কমে আসতে পারে। 

তবে মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের আলোচনায় দ্রুতই চাপা পড়ে যায় ফাউলের বিতর্ক।

তবে বিতর্কের মধ্যেও নিজের ছন্দ ধরে রাখেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। একটি গোল আসে রিবাউন্ড থেকে, অন্যটি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে।

শেষ পর্যন্ত মেসির নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে। আর মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নাম লিখে ফেলেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: