বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:০৩, ১৭ জুন ২০২৬

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত স্পেশাল পারপাস কোম্পানি ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ও ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড’ নামে একটি বিশেষায়িত কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এবং ৭০ শতাংশ মালিকানা থাকবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) হাতে।

বেজার অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণ করা জমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে সিআরবিসি তাদের অংশের বিপরীতে নগদ বিনিয়োগ করবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প স্থাপন, প্রশাসনিক ব্যয় ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদনে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হলো।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বর্তমানে নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পের ধরন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামোসহ বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল হবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে।

তবে প্রকল্পে কী ধরনের শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে, মোট বিনিয়োগ কত হবে কিংবা কাজ কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।