বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:২৪, ১৭ জুন ২০২৬

জ্বালানি বাজেটের ৯৮% জীবাশ্মনির্ভর, নবায়নযোগ্যে মাত্র ২% : সিপিডি

জ্বালানি বাজেটের ৯৮% জীবাশ্মনির্ভর, নবায়নযোগ্যে মাত্র ২% : সিপিডি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য উৎসের প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট বাজেটের প্রায় ৯৮ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কার্যক্রমে বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য রাখা হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: জ্বালানি খাত কী পেল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি।

প্রবন্ধে বলা হয়, এ ধরনের বাজেট কাঠামোর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, উচ্চ ভর্তুকি এবং সীমিত সবুজ বিনিয়োগ জ্বালানি রূপান্তরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে জাতীয় বাজেটে এ খাতের অংশীদারত্ব কমে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ কমে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিভাগে বরাদ্দ বেড়ে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মূলত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের কারণে।

সিপিডি জানায়, বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপও রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর সুবিধা বহাল রাখা, সোলার ইনভার্টার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো এবং বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের নিবন্ধন ফি ও চার্জিং স্টেশনের করহার হ্রাসের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাওয়া, সৌর সেচ প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব এবং শুল্ক সুবিধা গ্রহণে জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানিতে কর সুবিধা অব্যাহত রাখা ও নতুন করে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

ভর্তুকির বিষয়েও বড় উদ্বেগ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা, এলএনজি খাতে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং প্রথমবারের মতো তেল খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সরকারি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জ্বালানি খাতে টেকসই রূপান্তরের জন্য সিপিডি কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নয়ন বাজেটের অন্তত ২০-৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, স্মার্ট গ্রিডে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সৌর সেচে বিশেষ ভর্তুকি এবং একটি ‘গ্রিন সাবসিডি ফান্ড’ গঠন।

সংস্থাটি মনে করে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু কর-সুবিধা নয়, বরং একটি কার্যকর সবুজ রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি।