বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৪৮, ১৭ জুন ২০২৬

১৬ লাখ টন তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

১৬ লাখ টন তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

জিটুজি (গভমেন্ট টু গভমেন্ট) পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই তেল কেনার বিষয়ে সমঝোতা করতে আগামী ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তুলনামূলক কম দামে তেল কেনার লক্ষ্যে এবারই প্রথম কোনো জ্বালানিমন্ত্রী সরাসরি বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। সফরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর অর্ধেক দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে ক্রয় করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১০টি দেশের সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় বছরে দুই ধাপে তেল সরবরাহ করা হয়।

আসন্ন সমঝোতায় অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি, কিউ ট্রেডিং ও পেটকো মালয়েশিয়া।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, জিটুজি ভিত্তিতে তেল কেনার ক্ষেত্রে মূল দামের বিষয়ে সরাসরি দরকষাকষি হয় না। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটস ফর্মুলা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে প্রিমিয়াম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ও অন্যান্য খরচ নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ করেছে বিপিসি। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের প্রিমিয়াম ১৩ দশমিক ১৮ থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনায় এই প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে। মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৩০ হাজার টন তেল কিনতে যেখানে প্রায় ৫ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ কোটি ডলারে। সর্বশেষ হিসাবে, বিপিসি প্রতি লিটার ডিজেল কিনছে প্রায় ১৬৩ টাকায়, যার মধ্যে ৩৬ টাকা আমদানি শুল্ক রয়েছে।

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুতও সন্তোষজনক রয়েছে। ১৪ জুন পর্যন্ত অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল মিলিয়ে যে মজুত আছে, তা দিয়ে অন্তত ৩২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।