বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৪৬, ১৬ জুন ২০২৬

দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরা ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ: জাহেদ

দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরা ছিল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ: জাহেদ

ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতার মুখে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি সেখানে ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলাম। ফলে আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই আমি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আমার মনে হয়েছে রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।”

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই তার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তিনি দেশ-বিদেশে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার এবং সেই মর্যাদা ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক চায় না। তবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতেই আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করব। রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ এই সরকার নেবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট না থাকা তার দিল্লিতে প্রবেশে বাধার কারণ ছিল না। তিনি বলেন, তার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার ছিল এবং সেটি কার্যত কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতোই সুবিধা পাওয়ার কথা। “কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নিলেও আমার বিদেশ সফরে কোনো বাধা থাকার কথা নয়,” বলেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, তিনি একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ভারতে গিয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে প্রবেশ করলেও তার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটে। এ সময় দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সার্বক্ষণিকভাবে তার পাশে ছিলেন এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর আমার মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধির প্রতি যে সৌজন্য দেখানো উচিত ছিল, তার ঘাটতি রয়েছে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে ভারতে প্রবেশ করব না।”

এ ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল। পরবর্তী করণীয় বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন জটিলতার মুখে পড়ে তিনি ভারতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।