আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমর। দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দলে যুক্ত হন তিনি। তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি। চোট কাটিয়ে দ্রত সেরে উঠছেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা।
নিজের চতুর্থ ও শেষ বিশ্বকাপে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার নিজেকে ‘বাচ্চা’র মতো মনে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন।ফিটনেস সমস্যায় ভুগতে থাকায় ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের শনিবার নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে খেলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তবে কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভালোভাবে সেরে উঠছেন বলে আশা করছেন। এ লক্ষ্যে দলের কর্মকর্তারা নেইমারকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বগুলোর জন্য তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিম এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেবে না বলে আশা করা হচ্ছে এবং গ্রুপ পর্বের শুরুর দিকের খেলার সময়ের চেয়ে তার দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গ্রুপ ‘সি’ থেকে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রাজিলের হয়ে নেইমারকে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। ভক্তরা আশা করছেন, নকআউট পর্বে নির্ণায়ক প্রভাব ফেলার জন্য তিনি সময়মতো ফিরতে পারবেন।
বুধবার (১০ মে) মুক্তি পেতে চলা পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘ভাই, ব্রাজিল’ (এগিয়ে চলো, ব্রাজিল)-এর একটি প্রিভিউতে নেইমার বলেন, যদিও এটা আমার চতুর্থ বিশ্বকাপ, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত সবকিছু এবং অবশ্যই এটাই শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার কারণে অনুভূতিটা ভিন্ন।
নেইমার তার ‘শেষ’ বিশ্বকাপ বলে অভিহিত এই আসরকে সামনে রেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিজেকে তরুণ, গর্বিত এবং টুর্নামেন্টের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে আগ্রহী অনুভব করছেন।
বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের সাবেক এই ফরোয়ার্ড বলেন, আমি এখানে একটি বাচ্চার মতো, প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে আসা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের মতো অনুভব করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি এখানে এসে খুব গর্বিত, খুব খুশি। আমি এই বিশ্বকাপের প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে যাচ্ছি এবং আশা করি এটি বিশেষও হবে।
ব্রাজিল ১৯ জুন হাইতির বিপক্ষে তাদের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে। এরে পাঁচদিন পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিডি প্রতিদিন/আরকে