কিলিয়ান এমবাপ্পে হয়তো ভেবেছিলেন তিনি লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নেমে নিজের ১৩ ও ১৪ তম বিশ্বকাপ গোল করে মেসিকে টপকে এককভাবে তালিকার তিন নম্বরে বসেছিলেন। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই যেন ফরাসি ফরোয়ার্ডকে পাল্টা বার্তা দিলেন লিওনেল মেসি। তিনি এক আর দুইয়ের হিসাব বদলে দিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন রেকর্ডের এভারেস্ট চূড়া।
কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি তুলে নেন তিনি। এরপর ৬০ মিনিটে আরও একটি গোল করে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৭৬ তম মিনিটে হ্যাট্রিক পূরণ করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করেন মেসি। ফলে এমবাপ্পের চেয়ে তিনি আরও দুই ধাপ এগিয়ে গেলেন। এবার লড়াইটা হবে আরও হাড্ডাহাড্ডি।
শুরুতেই এমন দুর্দান্ত মেসিকে দেখে নিশ্চয়ই এমবাপ্পের মনটা ভিষণ খারাপ হয়ে গেছে। চেয়েছিলেন অনায়াসে তিনি টপকে যাবেন ক্লোসাকে কিন্তু মেসি তার গরম ভাতে ছাই দিয়ে দিল।
এর আগে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে প্রথম গোল করে তিনি ব্রাজিলের মহানায়ক পেলেকে ছাড়িয়ে যান এবং জুস্ত ফন্তেন ও মেসির পাশে বসেন। এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে সেনেগাল ব্যবধান কমালে, দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মঁদিকে পরাস্ত করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই দ্বিতীয় গোলটি করে অলিভিয়ের জিরুকে টপকে ৫৮ গোল নিয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন। অবশ্য এর কিছুক্ষণ পরেই মেসি গোল করায় বিশ্বকাপের মঞ্চে দুজনের গোল সংখ্যা আবার সমান হয়ে যায়।
রেকর্ডের লড়াইয়ে অবশ্য এমবাপ্পে অনেক বেশি গতিশীল। নিজের মাত্র ১৫তম বিশ্বকাপ ম্যাচেই ১৪ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির লেগেছে ২৭টি ম্যাচ। আর সর্বকালের সেরা গোলদাতা ক্লোসা ২৪ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল। তবে কার্যকারিতার দিক থেকে সবার ওপরে থাকবেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেন, যিনি এক বিশ্বকাপের মাত্র ৬ ম্যাচেই করেছিলেন নিজের ১৩টি গোল।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মেসিকে এক গোলে হারিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে, অন্যদিকে মেসি জিতেছিলেন গোল্ডেন বলের পুরস্কার। এবার ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে তোলা এবং নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন এমবাপ্পে। একই স্বপ্ন দেখছেন লিওনেল মেসিও।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ