জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবারের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে চিঠিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে দিনভর নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলে। ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় শাখা পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল দুদকের অনুসন্ধান দলের সঙ্গে এই কার্যক্রমে অংশ নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলামের উপস্থিতিতে নথিপত্র প্রস্তুত, অনুবাদ ও ফাইল করার কাজ শেষ করে বিকালেই তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ৬টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ। এ মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২৩ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর এই মামলায় চার্জশিট দেয় দুদক। পরে ৮ মার্চ আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই (পলাতক দেখিয়ে) বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ১০ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল।
মামলার চার্জশিট অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অবৈধ এই অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি কোম্পানিতে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।
তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
তার মোট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যাবতীয় ব্যয় বাদ দিলে তার নিট বৈধ সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে তার বাকি ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদই অবৈধ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা তার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটও ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।