ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প যেখানে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না, সেখানে হাকাবির দাবি— ইসরায়েল না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রেরও অস্তিত্ব থাকত না।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে ইসরায়েলে দেওয়া এক বক্তব্যে মাইক হাকাবি বলেন, ইসরায়েল না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও থাকত না। ইহুদি ভিত্তি ছাড়া আমেরিকার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। আমেরিকার ইতিহাস ও অস্তিত্বের পেছনে এই ভূমির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
হাকাবির এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
সম্প্রতি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার জন্য অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট প্রস্তুত ছিলেন না।
এদিকে, আগামী শুক্রবার জেনেভায় নির্ধারিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা পাগলামি বলেও মন্তব্য করেছেন।
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবার একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পাওয়া হাকাবি একজন ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর। ইসরায়েলের স্বার্থকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/শআ