এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ১-১ গোলের ড্র-টি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
কিন্তু মাঠের বীরত্ব ছাপিয়ে আলোচনায় এখন তার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারার আক্ষেপ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গোলরক্ষকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সরকার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে তার ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য সহায়তা করার চেষ্টা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজিনহা বলেন, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি, কারণ তিনি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি... ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণেই। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।'
কেপ ভার্দে সেই ৫০টি দেশের একটি, যেসব দেশের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হয়। এর কারণ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থান করার উচ্চ হারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভোজিনহার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি তাদের কাছে নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য' এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হয়।
তিনি বলেন, 'মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ব্যক্তির ভিসা আবেদনের কোনো রেকর্ড নেই। খেলোয়াড়দের সব স্বজন ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা দিতে দপ্তরটি সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।'
৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দিয়ান এই গোলরক্ষক, যিনি স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রেখেছেন, তিনি এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের হৃদয় জয় করছেন। সিএনএনের আমান্ডা ডেভিস ব্যাখ্যা করেছেন, এই বিস্ময়কর ফলাফল এবং হঠাৎ পাওয়া ব্যাপক মনোযোগের বিষয়ে ভোজিনহার প্রতিক্রিয়া কেমন।
এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের জানা অনুযায়ী ভোজিনহার মায়ের বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই এবং তিনি একটি পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, 'বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের—যার মধ্যে কোচ, প্রয়োজনীয় সহায়ক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং নিকটাত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত—জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে।'
এটি ভোজিনহার জন্য এক ঝড়ো উত্থানের গল্প। ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি দলে খেলেন। তিনি স্পেনের বিপক্ষে সাতটি গোল আটকান এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দলকে তার দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করতে দেননি।
অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে কেপ ভার্দে বিধ্বস্ত হবে, যেমনটি রবিবার বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। কিন্তু ভোজিনহা ও তার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ৯০ মিনিট ধরে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে হতাশ করে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলোর একটি অর্জন করেন।
প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি এই সাফল্য উদ্যাপন করে এবং বিশ্বের বহু মানুষও তাদের আনন্দে শামিল হয়। এর ফলে আগে খুব বেশি পরিচিত না থাকা এই গোলরক্ষকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
ব্রাজিলের একটি সম্প্রচারমাধ্যমের উৎসাহব্যঞ্জক প্রচারের পর ভোজিনহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার থেকে বেড়ে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৯৭ লাখেরও বেশি হয়েছে।
কেপ ভার্দে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায়। সেদিন মিয়ামিতে তারা উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
বিডি প্রতিদিন/জেডএ