শিক্ষা নিয়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি পূরণ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হচ্ছে ৩৮ প্রকল্প। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের ‘শিক্ষা সংস্কারের ৩১ দফা’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এসব প্রকল্পে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এসব প্রকল্প শুরু করতে চায় মাউশি। শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবনা পেয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের ধারণাপত্র ও সারসংক্ষেপ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাউশির প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ স্থাপন (ব্যয় ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা), সমন্বিত শিক্ষার্থী কল্যাণ প্রকল্প (ব্যয় ৩ হাজার ৫০২ কোটি), শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিমার্জন ও উন্নয়ন (৩ হাজার ৮৫ কোটি), নির্বাচিত এলাকায় ৬০০ মডেল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি), শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রযুক্তি ল্যাব স্থাপন (৪ হাজার ৫০০ কোটি)। এসব প্রকল্পের মধ্যে আরও রয়েছে-৩২টি বড় জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন (৪২ হাজার ৯৯৫ কোটি), বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়ন সহায়তা (২ হাজার ৫০০ কোটি), বিদ্যালয়ে গ্রিন অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং (১ হাজার ১৫৮ কোটি), বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা (১ হাজার ৬৭৪ কোটি)। মোট ৩৮ প্রকল্পের মধ্যে আরও রয়েছে-বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের মানোন্নয়ন (৩ হাজার ৫০০ কোটি), শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় শিক্ষা টিভি চ্যানেল (৪০০ কোটি), ন্যাশনাল ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার স্থাপন (২০০ কোটি), ঝরে পড়া রোধে দুর্গম এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণ (১ হাজার ৫৯৫ কোটি), সদ্য জাতীয়করণকৃত সরকারি কলেজের উন্নয়ন (৬ হাজার ৬৪০ কোটি), বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি সরকারি বিদ্যালয় ও একটি সরকারি কলেজ স্থাপন (২৫৫ কোটি)।
জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের মতামত ও যাচাইবাছাই শেষে ফিজিবিলিটি সম্পন্নের পর এসব প্রকল্পের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। গত মাসে এসব প্রকল্পের ধারণাপত্র তৈরিতে তিন দিনের কর্মশালার আয়োজন করে মাউশি অধিদপ্তর। কর্মশালায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামত ও সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রকল্পগুলো প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মীর জাহীদা নাজনীন প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া বাজেট জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। এগুলো সরকারি অর্থায়নে হবে নাকি উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদানে হবে নাকি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে হবে সে ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। পরিচালক আরও জানান, এসব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আমরা বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী সম্প্রতি প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দকে আমরা মানব সক্ষমতা বিনির্মাণের জন্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখি।
প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি এসব প্রকল্প যেন সময়মতো বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। যতই বিনিয়োগ করা হোক, শিক্ষার মান না বাড়লে কোনো লাভ হবে না।