নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।
বুধবার নেপালের স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন পৌঁছে দেন।
তিনি প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্যও স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সাথে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দুই দেশকে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিপুল অথচ এখনো বহুলাংশে অব্যবহৃত সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল অনেক অভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি সার্ক ও বিমসটেক-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মাঝে বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের নিজস্ব উন্নয়ন যাত্রায় ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলা দুই দেশের জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে।
এ ছাড়া তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি অধিকতর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা ও কারিগরি বিষয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তারও প্রশংসা করেন তিনি।
বিডি প্রতিদিন/এমআই