ফ্রান্সের ইভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেলেও নতুন এক সিদ্ধান্তে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) কোম্পানির সবচেয়ে উন্নত এআই মডেল ব্যবহারে বিদেশি নাগরিকদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
এই সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিকের দারিও আমোদেই, গুগল ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস এবং মিস্ট্রাল এআই-এর আর্থার মেঁশ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন নিজে অল্টম্যানকে আমন্ত্রণ জানান, যা এই ধরনের বৈঠকে তার প্রথম অংশগ্রহণ।
তবে সম্মেলনের ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্র অ্যানথ্রোপিকের ‘ফেবল ৫’ ও ‘মাইথোস ৫’ মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের মতে, এসব উন্নত প্রযুক্তি প্রতিপক্ষ দেশগুলোর—যেমন চীন বা রাশিয়ার—সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পড়তে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি ব্যবহারকারীদের যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে পুরো সিস্টেমই বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, জি-৭-এর মিত্র দেশগুলোকেও এই সুবিধা থেকে ছাড় দেওয়া হয়নি।
এর ফলে সম্মেলনের আলোচনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই পরিচালনায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে তারাই উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সহযোগিতাকে জটিল করে তুলতে পারে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে