বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:৫৯, ১২ জুন ২০২৬

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার প্রভিশন রাখা হয়নি:এনবিআর চেয়ারম্যান

বাজেটে কালোটাকা  সাদা করার  প্রভিশন রাখা হয়নি:এনবিআর চেয়ারম্যান

এবারের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।

গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, এবারের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয়নি। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।

এর আগে এদিন সকালে সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এবারওকালোটাকা সাদা করার সুযোগরাখার সমালোচনা করা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে কালোটাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তাসমর্থনযোগ্য নয়

অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই সে প্রসঙ্গ আসে। একজন সাংবাদিক বলেন,  ‘ভালো বাজেটের কালো দিক কালোটাকা। এই সুযোগটা না রেখে বাজেটকে কালোটাকা মুক্ত করা যেত কি না।

সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের উত্তর দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, একটি বিষয় বুঝতেভুলহচ্ছে। মরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ তার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, তিনি জমি বিক্রি করেছেন পাঁচ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এক কোটি টাকায়। বাকি চার কোটি টাকা নিয়ে তিনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ করেছিলাম যে, তিনি যদি বাকি চার কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে তার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং তার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে তিনি ওটার ওপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন।

আব্দুর রহমান বলেন, এটা আমরা গতবারই করেছি, এটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে, একটা ফ্ল্যাট তিনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হলো তিন কোটি টাকায়।

তিনি বলেন, আমাদের ট্যাক্সের লোকজন তাকে গিয়ে আবার চেইজ করে যে, আপনার আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার ওপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ। তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়।

তাদেরএকটু রিলিফ দেওয়ার জন্যএবার বাজেটে নতুন বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যদি তারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, যাতে করে তিনি ২০ শতাংশ এক্সট্রা দিয়ে রেগুলার ট্যাক্সের প্লাস ১৫ শতাংশ এক্সট্রা দিয়ে, যাতে এটা দেখাতে পারেন। আর যাদের নিজের টাকা আছে অলরেডি, যার ট্যাক্স দেওয়ার টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এরকম একটা প্রভিশন আছে, তবে এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।

পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই যে মৌজা রেটের বিষয়টা, যে সত্যিকার ভ্যালু থেকে অনেক কম থাকে, সেটা আপনারা সবাই জানেন। এটার ওপর আমরা কাজ করছি। যেহেতু আমরা সময় পাইনি, দেড় মাসের মধ্যে বাজেট করতে হয়েছে, অনেক কিছু ইচ্ছা থাকলেও আমরা শেষ করতে পারিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, মৌজা রেটের যে বিষয়টা আছে, সেটার ওপর একটা কমিটি হয়েছে এবং মৌজা রেটগুলো আমরা রিভিউ করতে যাচ্ছি। আমরা মৌজা রেটগুলো একটা রিয়েল ভ্যালুতে আনার চেষ্টা করছি, যাতে করে ওই কালোটাকা সাদা করার ক্ষেত্রে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, এটা দীর্ঘ একটা কাজ। এখানে কিন্তু সারা বাংলাদেশের একটা সার্ভে করতে হবে, মৌজাভিত্তিক করতে হবে। এখানে একটা মৌজার বাজারের এক মূল্য, তারপরে ধানের একেবারে চাষবাসের জায়গার আরেকটা মূল্য। এই সার্ভেটা আমরা করতে যাচ্ছি এবং এটা কমপ্লিট হলে মৌজা রেটটা যখন মার্কেট রেটের সঙ্গে আমরা নিয়ে আসতে পারব, তখন কালোটাকা সাদা করার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না।