বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০০:৪৪, ১৪ জুন ২০২৬

রাজস্ব আদায়ে চাপ নয়

​​​​​​​এনবিআরের সংস্কার চায় এফবিসিসিআই

​​​​​​​এনবিআরের সংস্কার চায় এফবিসিসিআই

নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা না হয়, সেই দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক অভ্যন্তরীণ কঠিন পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক কর আদায়ের চেষ্টা না করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে এফবিসিসিআই জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক শতাংশ বড়। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে এই বাজেটের আকারকে যৌক্তিক বলেই মনে করে সংগঠনটি। তবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বাজেটে দশমিক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং দশমিক শতাংশ মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জিত হলে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরবে।

সংগঠনটি বলছে, বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায়। মোট লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বর্তমান বৈশ্বিক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন। এফবিসিসিআই মনে করে, এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে একটি ব্যবসা বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার করতে হবে।

বাজেটের লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে গিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বা নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। এতে ব্যবসা ¤‹্রসারণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সুলভ সুদে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নে গুরুত্বারোপ করতে হয়।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বাজেট সফল করতে হলে সরকারি বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আরও জোরদার করতে হবে।

দেশের অর্থনীতিকে শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে কয়েকটি বিশেষ বিষয়ে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑবিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে দ্রুত কার্যকর করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমিয়ে আনা।

এছাড়া দেশের পুঁজিবাজার বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করা, সুদের হার হ্রাস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।