জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরে শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি। মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে বুধবার রাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা বৃদ্ধি পেয়ে এবার ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়। এবার আমরা ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছি। গত বছর ৮৮ হাজার কোটি টাকা ছিল। তবে তখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যয় একত্রে যুক্ত করা হয়েছিল, এবার তা করা হয়নি। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াবো।”
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ, সম্ভাবনা ও জনশক্তিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? একটি ক্ষেত্রেই আমরা এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি, সেটি হলো শিক্ষা। শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।”
তরুণ সমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জনসংখ্যাকে অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে ড. মিলন বলেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, “দেশকে সেবা করার জন্যই দেশে ফিরেছিলাম, দুর্নীতির জন্য নয়। দুর্নীতির জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিনি।”
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যমে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।