যে ৫ দক্ষতায় এআইকেও ছাড়িয়ে যাবে মানুষ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, কিছু মৌলিক মানবিক দক্ষতা কখনোই এআই দ্বারা পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ‘জবস ফর দ্য ফিউচার’-এর প্রধান নির্বাহী মারিয়া ফ্লিন জানান, সহমর্মিতা, সম্পর্ক গড়ে তোলা, দ্বন্দ্ব নিরসন এবং নৈতিক বিচারবুদ্ধির মতো গুণগুলোই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষকে এগিয়ে রাখবে। এসব দক্ষতাকেই ‘টেকসই দক্ষতা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর যুগেও মানুষের যেসব দক্ষতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে, সেগুলো হলো—
সহমর্মিতা:
মানুষের অনুভূতি বোঝা, কথার আড়ালের অর্থ উপলব্ধি করা এবং আবেগের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা—এসব ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প নেই। চিকিৎসা সেবার মতো ক্ষেত্রে এই গুণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা:
সহকর্মী বা গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করা এআই-এর পক্ষে কঠিন। কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব নিরসন ও মানসিক সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য।
যৌক্তিক চিন্তাভাবনা:
এআই তথ্য বিশ্লেষণ করলেও তা সবসময় সঠিক নয়। ভুল শনাক্ত করা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মানুষের নিজস্ব বিচারবোধ প্রয়োজন।
বিবেক ও নৈতিকতা:
ভালো-মন্দের পার্থক্য নির্ধারণ এবং নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানুষের বিশেষ গুণ। জটিল বা সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এই দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
জটিল সমস্যার সৃজনশীল সমাধান এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের অন্যতম বড় শক্তি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ এখনও এগিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে বরং এই মানবিক দক্ষতাগুলো উন্নত করতে পারলেই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষ তার মূল্য ধরে রাখতে পারবে।
সূত্র: এপি