বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৪৬, ১৩ জুন ২০২৬

ইউরোপে ২০২৬ সালে অবৈধ অভিবাসন কমেছে ৪০ শতাংশ

ইউরোপে ২০২৬ সালে অবৈধ অভিবাসন কমেছে ৪০ শতাংশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার ইইউর সীমান্ত কোস্ট গার্ড এজেন্সি ফ্রান্টেক্স তথ্য জানিয়েছে। খবর: আনাদোলু এজেন্সি

সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৯ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

ফ্রন্টেক্স বলছে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের যাত্রার প্রধান উৎসদেশগুলোয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অবৈধ অভিবাসনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে নতুনমাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্টকার্যকর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আওতায় ইইউ সীমান্ততে অভিবাসীদের জন্য অভিন্ন মানসম্মত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হান্স লেইটেনস বলেন, নতুন নিয়মের ফলে ইইউ সীমান্তে সবার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড মেনে চলা হবে। এই চুক্তি সদস্য দেশগুলোকে একই আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।

সংস্থাটি বলছে, মধ্য পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলো এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন পথ হিসেবে ব্যবহƒ হচ্ছে। আর আফ্রিকান রুটে অভিবাসীর চলাচল সবচেয়ে কমেছে। রুটে অনিয়মিত পারাপার ৭১ শতাংশ কমে এসেছে। তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এটি শতাংশ হিসেবে ৪৬ ভাগ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বরাতে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় হাজার ৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্কেন উপকূলে হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগর পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে আফ্রিকা থেকে পারাপারের বিষয়টি নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস এই তথ্য জানিয়েছে।

গত এক দশকে অনিয়মিত অভিবাসন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া স্কেনের দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি দ্বীপে পোপ লিওর সফরের আগে বুধবার কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্কেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় হাজার ৩১৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ২৭টি নৌকা সাগর পাড়ি দিয়ে গিয়ে আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে।

চলতি সপ্তাহে স্কেন সফরকালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আচরণের বিষয়ে কথা বলেছেন পোপ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন এক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ইউরোপের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো জায়গাগুলোতে পারাপার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কোস্ট গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়ানো চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে আরও দীর্ঘ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।

সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে স্কেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) এছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই মরক্কো থেকে স্কেনের মধ্যকার প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন পথ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ারও চেষ্টা করে থাকেন।

 

 

 

 

 

মার্কিন প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক

 

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কো¤‹ানিগুলোকে লক্ষ করে পরিচালিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার অনুপ্রবেশের প্রায় অর্ধেকের জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা দায়ী বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক।

প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ং-সমর্থিত সাইবার গোষ্ঠীগুলো এখন আরও কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা ভুয়া দূরবর্তী কর্মী (রিমোট ওয়ার্কার) সেজে চাকরি নেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ডিপফেক ব্যবহার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির মতো নানা পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফেমাস চোল্লিমানামে পরিচিত উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সাইবার তৎপরতার ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যতম সক্রিয় সাইবার হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

ক্রাউডস্ট্রাইক জানিয়েছে, উত্তর কোরীয় অপারেটিভরা প্রায়ই নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দূরবর্তী চাকরি লাভের চেষ্টা করে। তাদের এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডকে বিশ্বাসযোগ্য করতে এআই-নির্ভর ডিপফেক ছবি, চুরি করা পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে তারা বৈধ চাকরিপ্রার্থীর ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক সংবেদনশীল সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কৌশলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একাধিক সুবিধা অর্জন করে। চাকরি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন সরকারের কাছে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা গুরুত্বপূর্ণ মেধাস্বত্ব, গোপন ব্যবসায়িক তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার লাভ করে।

চুরি করা তথ্য পরে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহƒ হয়। অনেক ক্ষেত্রে হ্যাকাররা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। ক্রাউডস্ট্রাইক আরও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ব্লকচেইন ডেভেলপার ক্রিপ্টোকারেন্সি কো¤‹ানিগুলোকেও ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যেতে দেশটি ক্রমেই সাইবার চুরির মাধ্যমে ডিজিটাল ¤‹ অর্জনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এর আগে বিভিন্ন সাইবার অপরাধের মাধ্যমে তারা আরও কয়েক বিলিয়ন ডলারের ¤‹ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ক্রাউডস্ট্রাইক জানিয়েছে, তারা বিশেষভাবেহ্যান্ডস-অন-কিবোর্ডধরনের সাইবার হামলার ওপর নজর রাখে। এসব হামলায় স্বয়ংক্রিয় ম্যালওয়্যারের পরিবর্তে প্রকৃত ব্যক্তি সরাসরি ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে কাজ করে।

সাধারণত চুরি করা লগইন তথ্য ব্যবহার করে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বৈধ সফটওয়্যার টুলসের অপব্যবহার করে। ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে সিস্টেমে অবস্থান করতে পারে এবং প্রচলিত নিরাপত্তা সফটওয়্যারের নজর এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।