বিশ্বজুড়ে সাগরের পানিতে মিলল অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন
মানুষের তৈরি দূষণ আর গাফিলতির কারণে এবার বিশাল মহাসাগরগুলোও ভয়ংকর এক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ইতালির একদল গবেষক বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরের পানি পরীক্ষা করে এমন এক তথ্য সামনে এনেছেন, যা সারা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় সব মহাসাগরের পানিতেই ছড়িয়ে পড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন। সহজ কথায়, যেসব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে একসময় সাধারণ ওষুধ দিয়ে সহজেই ধ্বংস করা যেত, তারা এখন সাগরের জলেও নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের পরিবেশবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, সাগরের পানিতে এই জিনগুলো পৌঁছালো কীভাবে? বিজ্ঞানীরা এর জন্য সরাসরি মানুষের খামখেয়ালিকেই দায়ী করছেন। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং ব্যবহারের পর তা ঠিকমতো শোধন না করে সরাসরি প্রকৃতিতে মিশে যেতে দেওয়াই এর মূল কারণ। বাসাবাড়ির বর্জ্য, হাসপাতাল কিংবা পশুর খামার থেকে নির্গত এসব ওষুধের অবশিষ্টাংশ নদী-নালা হয়ে শেষ পর্যন্ত সাগরে গিয়ে পড়ছে।
এর ভবিষ্যৎ ফলাফল হতে পারে মারাত্মক। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে মানুষের সামান্য কাটাছেঁড়া বা সাধারণ কোনো ইনফেকশনও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সাগরের পানিতে তৈরি হওয়া এসব ‘সুপারবাগ’ বা অতি-শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই মাছ বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমে আবারও মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি সাগরে গোসল বা সাঁতার কাটতে নামলেও অজ্ঞাত এই সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাবে। আর সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, একবার এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে বাসা বাঁধলে তখন কোনো প্রচলিত ওষুধই আর কাজে আসবে না। ইতালীয় বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা মূলত সারা বিশ্বের জন্যই একটি চরম সতর্কবার্তা। গবেষকরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই যদি অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না হয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক নিয়ম মানা না হয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বকে এমন এক মহামারির মুখোমুখি হতে হবে যার কোনো চিকিৎসা মানবজাতির জানা নেই। নিজেদের সুবিধার জন্য মহাসাগরকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করে আমরা যে নীরব বিপদ ডেকে আনছি, অচিরেই হয়তো তার চড়া মূল্য চোকাতে হবে।